kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। এই অবস্থায় অনেকে ক্যাম্পাস ছেড়ে বাসায় চলে যাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, র‌্যাগিংয়ের দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রশাসন যথেষ্ট অনুসন্ধান না করেই ওই শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের সহপাঠীরা তাঁদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে রেজিস্ট্রারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। একই দিন প্রশাসনিক ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন র‌্যাগিংয়ের দায়ে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনায় বসে। এ সময় শিক্ষার্থীরা বাইরে থেকে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। তাতে উপাচার্যসহ শতাধিক শিক্ষক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের মৌখিক দাবি মেনে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু জোর করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা নিয়ে শিক্ষক সমিতি জরুরি সভা আহ্বান করে। ওই সভায় দুই দফা দাবিও দেন শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানা যায়।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে, র‌্যাগিংয়ের দায়ে দোষী শিক্ষার্থীদের শাস্তি বহাল রাখতে হবে এবং প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্যসহ শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ওই শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেন।

তবে র‌্যাগিংয়ের এক দায়ে বহিষ্কৃত এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘পরদিনের একটি প্রগ্রামের কথা জানাতে আমরা জুনিয়রদের রুমে গেছি। কিন্তু শিক্ষকরা সেখান থেকে আমাদের ছবি তুলে নিয়ে যান। কিছুদিন পর কোনো তদন্ত ছাড়াই ১৫ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের নোটিশ পাঠান। এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একক সিদ্ধান্তেই হয়েছে। আমরা এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার চাই।’

কৃষি অনুষদের অষ্টম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান আবিদ বলেন, শিক্ষকদের এই কর্মবিরতির কারণে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আমাদের নিয়মিত পরীক্ষাগুলোও এখন বন্ধ। যে কারণে আমাদের মাস্টার্সের সেশনজটে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আমরা এই অবস্থার দ্রুত সমাধান চাই।’

অন্যদিকে র‌্যাগিংয়ের দায়ে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে এবং উপাচার্যসহ শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা দোষী শিক্ষার্থীদের শাস্তি চাই। নির্দোষ কোনো শিক্ষার্থীদের শাস্তি চাই না। তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। তাদের দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষী শিক্ষার্থীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে শিক্ষক সমিতি।’

এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। গত রবিবার শৃঙ্খলা বোর্ডের আলোচনাসভা হওয়ার কথা থাকলেও উপাচার্যের অনুপস্থিতির কারণে তা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শৃঙ্খলা বোর্ডের বৈঠক ছাড়া কিছুই বলা যাচ্ছে না। পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে, আরেকটি প্রতিবেদন পেলে শৃঙ্খলা বোর্ডের মিটিং ডেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। শৃঙ্খলা বোর্ডের মিটিং আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে হতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা