kalerkantho

বুধবার । ২৫ চৈত্র ১৪২৬। ৮ এপ্রিল ২০২০। ১৩ শাবান ১৪৪১

৩৪ বছরের নারী তুলছেন ৬২ বছরের বৃদ্ধার ভাতা

বাবার চেয়ে মেয়ের বয়স বেশি!

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাবার জন্মের দুই বছর আগে মেয়ের জন্ম। সেই জন্মতারিখ দেখিয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে পাঁচ বছর ধরে বয়স্ক ভাতা তুলছেন এক নারী। তাঁর বর্তমান বয়স ৩৪ হলেও বয়স্ক ভাতার কার্ড অনুযায়ী তিনি ৬২ বছরের বৃদ্ধা। স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাঁকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জন্ম সাল নিয়ে এমন প্রতারণা করা মজিরন বিবি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের বেলাল উদ্দিনের স্ত্রী। জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকা অনুযায়ী মজিরন বিবির জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৪৮। তাঁর বাবা মো. নছির উদ্দিনের জন্মতারিখ ২০ মে ১৯৪৯। আর মজিরনের স্বামী বেলাল হোসেনের জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৭৪। সেই হিসাবে মজিরন বিবি তাঁর বাবার চেয়ে দেড় বছরের এবং স্বামীর চেয়ে ২৬ বছরের বড়।

উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ওই গ্রামে বয়স্ক ভাতাপ্রাপ্ত জফিরন বেওয়ার মৃত্যু হলে তাঁর স্থলে মজিরন বিবির নামে ওই কার্ড ইস্যু করা হয়। তবে তাঁর নামে কিভাবে এই কার্ড ইস্যু হলো—এ বিষয়ে কেউ সদুত্তর দিতে পারেননি। আরো জানা গেছে, মজিরন বিবি ২০১৫ সালের মে থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বয়স্ক ভাতা কার্ডের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে নিয়মিত টাকা উঠাচ্ছেন।

জানতে চাইলে মজিরন বিবি বলেন, যাঁরা জাতীয় পরিচয়পত্রের কাজ করেছেন, তাঁরাই এই ভুল করে বয়স বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাতে আমার কোনো দোষ নেই। বয়স ৬২ না হওয়া সত্ত্বেও কে বা কারা তাঁর নামে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিতে সহযোগিতা করেছেন, সে বিষয়ে মজিরন বিবি মুখ খুলতে রাজি হননি।

সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বলেন, ‘আমার আগের চেয়ারম্যান শামসুল আলমের সময় এই তালিকা হয়েছে। মজিরন বিবির নাম কিভাবে বয়স্ক ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো, তা আমার জানা নেই।’

তবে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এম শামসুল আলম বলেন, মজিরনের স্বামী বেলাল হোসেন জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ইউপি অফিসে এসেছেলিন। পরে সেই পরিচয়পত্র দেখে তাঁকে বয়স্ক ভাতার আওতাভুক্ত করা হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রাজুল ইসলাম বলেন, ‘বয়স্ক ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা জাতীয় পরিচয়পত্রের বয়সকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকি। বয়স নিয়ে কেউ প্রতারণা করে থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা