kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

খরচের নামে টাকা আদায়

পীরগাছায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা পেতে হয়রানি

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রংপুরের পীরগাছায় তিনটি ইউনিয়নের বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের কাছ থেকে ব্যাংক খরচের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কার্ডপ্রতি ১০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের দামুরচাকলা শাখা। ওই শাখার অফিস সহায়ক মোখলেছ মিয়া কার্ডধারীদের কাছ থেকে টাকা তুলছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ পেয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার ওই ব্যাংকের শাখায় গিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের সত্যতা পেয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের পীরগাছা উপজেলার দামুরচাকলা শাখায় অফিস সহায়ক মোখলেছ মিয়া বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের কার্ড জমা নিচ্ছেন। কার্ডের সঙ্গে প্রত্যেকের কাছে ১০ টাকা করে আদায় করছেন। তবে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে অনেকের কাছে বেশি টাকাও নিচ্ছেন।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ভাতা বিতরণের সময় টাকা আদায় করে আসছে। টাকা না দিলে ভাতাভোগীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। টাকা ছাড়া কার্ড জমা নেওয়া হয় না, টাকাও বিতরণ করা হয় না। পরে বকেয়া ভাতা তুলতে গেলে নতুন করে কয়েক গুণ টাকা আদায় করা হয়। তাই ভয়ে অসহায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীরা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে আসছেন।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার অন্নদানগর, ইটাকুমারী ও কল্যাণী ইউনিয়নে মোট ভাতাভোগী রয়েছেন চার হাজার ১১ জন। এর মধ্যে দুই হাজার ৪২৯ জন বয়স্ক, এক হাজার ২০ জন বিধবা ও ৫৬২ জন প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী আছেন। ভাতা হিসাবে প্রতি মাসে বয়স্ক ও বিধবা ৫০০ টাকা ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের ৭৫০ টাকা করে দেওয়া হয়। তাঁরা রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক দামুরচাকলা শাখা থেকে ভাতা উত্তোলন করেন।

বয়স্ক ভাতা গ্রহণকারী ইটাকুমারী ইউনিয়নের সরোবালা বলেন, ‘বুধবার দুপুরে বয়স্ক ভাতার টাকা তুলতে ব্যাংকে যাই। সেখানে গেলে ব্যাংকের লোক টাকা তোলার জন্য খরচ বাবদ ৩০ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় কার্ড জমা নেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে ওই টাকাসহ কার্ড জমা দিয়েছি।’

অভিযুক্ত ব্যাংকের অফিস সহায়ক মোখলেছ মিয়া বলেন, ‘ব্যবস্থাপক আমাকে টাকা নিতে বলেছেন, তাই নিয়েছি।’

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের দামুরচাকলা শাখার ব্যবস্থাপক মনোয়ার হোসেন টাকা আদায়ের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘মোখলেছকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এখন আমি নিজে বিতরণের বিষয়টি তদারকি করছি।’

পীরগাছা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ‘আমি ব্যাংকে গিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে কাউকে টাকা না দেওয়ার জন্য বলেছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা