kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

আক্কেলপুর

একে তো গড়িমসি, তার ওপর নিম্নমান

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একে তো গড়িমসি, তার ওপর নিম্নমান

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বাড়ইল গ্রামে সড়ক সংস্কারকাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে এ কাজে ধীরগতি থাকায় স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ছবিটি গতকাল সকাল ১১টায় তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দীর্ঘ দেড় বছরেও সড়কটি পাকা করার কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তার ওপর নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এ চিত্র জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের বাড়ইল গ্রামের গোপীনাথপুর ইউপি কার্যালয়-রুকিন্দীপুর ভায়া মাদারতলী ঘাট সড়কের ১৫০০ মিটার অংশের। ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৭ জুন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে সড়কটির ৮০০ থেকে ২৩০০ মিটার (১৫০০ মিটার) অংশ পাকা করার কাজ শুরু হয়। একই বছরের ১৩ অক্টোবর জাতীয় সংসদের হুইপ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন কাজটির উদ্বোধন করেন।

এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ১২ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের ১৬ জুনের মধ্যে কাজটি শেষ করার কথা বগুড়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মসনবী এন্টারপ্রাইজের। কিন্তু মেয়াদ শেষ হলেও কাজ শেষ করতে পারেনি তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যেখানে এক নম্বর ইট ব্যবহারের কথা সেখানে বেশির ভাগ অংশে তিন নম্বর ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। দেড় বছর আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সড়কের মাটি খুঁড়ে কিছু কিছু অংশে ইট-বালু ফেলেছিল। তখন বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে থাকত। পরে তারা কিছু কিছু জায়গায় ইটের খোয়া ফেলে রাখে। কিন্তু এখনো রোলার দিয়ে সমান করেনি। দ্রুত সড়কের কাজ শেষ করার দাবি জানান তাঁরা।

গতকাল রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির কোথাও কোথাও নিম্নমানের ইটের খোয়া ফেলছেন শ্রমিকরা।

বাড়ইল গ্রামের নাদিম হোসেন অভিযোগ করেন, ‘এত বড় সড়কে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাত্র তিনজন শ্রমিক দিয়ে কাজ করছে। এভাবে কাজ চললে কয়েক বছরেও শেষ হবে না। আবার যেসব ইট ব্যবহার করা হচ্ছে সেগুলোও নিম্নমানের।’

মোজাম্মেল সমজদারের অভিযোগ, ‘দেড় বছর পার হয়েছে, তবু কাজ শেষ হয় না। যেসব ইট ব্যবহার করা হচ্ছে তা এমনিতেই গুঁড়া হয়ে যাচ্ছে। একে তো কাজে অনিয়ম তার ওপর আবার ধীরগতি। দুর্ভোগের যেন শেষ নেই।’

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক টি বি এইচ মোস্তাকিমের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এমনকি খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর কোনো সাড়া মেলেনি।

সড়কের কাজে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খারাপ ইট অপসারণ করে তারপর কাজ করতে বলেছি। আর যেহেতু কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাজ শেষ হয়নি—এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা