kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

ভাটার মাটিতে রাস্তা নষ্ট

চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা
পাঁচ ভাটা মালিককে শোকজ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভাটার মাটিতে রাস্তা নষ্ট

চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় পড়ে আছে ইটভাটার মাটি। ছবি : কালের কণ্ঠ

চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ প্রধান সড়কের পাশে গড়ে উঠা পাঁচটি ইটভাটার মাটি রাস্তায় স্তূপাকারে পড়ে থাকায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খোলা যানবাহনে বহনের কারণে রাস্তার ওপর মাটি পড়ে থাকছে। এতে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। আবার রাস্তার সংস্কারকাজেও দেখা দিচ্ছে নানা অসুবিধা। এ অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপথ বিভাগ অভিযুক্ত পাঁচ ভাটা মালিককে শোকজ করেছে।

চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আদম আলী জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে বদরগঞ্জ পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে সংস্কারকাজ চলছে। এদিকে এই সড়কের পাশে নয়মাইল বাজারের কাছে গড়ে উঠেছে কয়েকটি ইটভাটা। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেবের মেসার্স আরএম ব্রিকস, আব্দুল খালেকের মেসার্স ডিএমএসবি ব্রিকস, একরামুল হকের মেসার্স এইচবি ব্রিকস, মুকুল ইসলামের মেসার্স সততা ব্রিকস ও আব্দুল কাদেরের একতা ব্রিকস নামের পাঁচটি ইটভাটা ইট প্রস্তুতের জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি নিয়ে আসছে ভাটায়। চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ প্রধান সড়কপথ দিয়ে ভাটাগুলোতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মাটি। মাটি বহনের জন্য স্থানীয়ভাবে তৈরি ইঞ্জিনচালিত যান ট্রলি, লাটাহাম্বার কিংবা আলমসাধু ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব খোলা যানবাহনে মাটি বহনের কারণে রাস্তার ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকছে মাটি, যা পরে আর ভাটা মালিকপক্ষ সরিয়ে নিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করছে না। ওই মাটি রাস্তায় পড়ে থাকায় রাস্তা চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

গত মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের চুয়াডাঙ্গা থেকে বদরগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের শ্রমিকরা রাস্তায় সংস্কারকাজ করছে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ইটভাটার মাটি পড়ে শুকিয়ে থাকতে দেখা গেছে। রাস্তার কোনো কোনো অংশে সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। সংস্কার সম্পন্ন হওয়া ঝকঝকে নতুন রাস্তার ওপরও ইটভাটার মাটি পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

অনেকে বলে, চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কটি ছাড়াও চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর ও চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কেও ইটভাটার মাটি পড়ে থাকে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলাচল করতে হয়।

এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা, খুলনা, বরিশাল রুটে হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে থাকে। কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলসহ কয়েক হাজার ছোট যানবাহনও চলাচল করে। রাস্তায় মাটি পড়ে থাকার কারণে ধীরগতিতে গাড়ি চালাতে হয়। তা না হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

এই রুটে নিয়মিত চলাচলকারী মাইক্রোবাসচালক জিনারুল ইসলাম জানান, ইটভাটার মাটি রাস্তায় পড়ে থাকে, সরানো হয় না। মাটি রাস্তার ওপর শুকিয়ে যায়। গাড়ি যখন চলে তখন ঘট ঘট ঘট ঘট শব্দ হয়। কিন্তু সামান্য একটু বৃষ্টি হলে বড় সমস্যা দেখা দেয়। তখন বড় ধরনের দুর্ঘটনার ভয় থাকে। এ অবস্থায় খুবই সাবধানে গাড়ি চালাতে হয়।

এ ব্যাপারে ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও অভিযুক্ত মেসার্স আরএম ইটভাটার মালিক আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘সড়ক ও জনপথ বিভাগ রাস্তা সংস্কারের কাজ করছিল। ওই সময় আমাদের চিঠি দেওয়ার পর আমরা মাটি বহন করা বন্ধ রাখি। ইতিমধ্যেই রাস্তার সংস্কারকাজও শেষ হয়েছে। এখন কোনো সমস্যা নেই।’ 

চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আদম আলী বলেন, ‘রাস্তার পাশের পাঁচটি ইটভাটার মাটি নিয়ে আমরা খুব বিপাকে আছি। মৌখিকভাবে একাধিকবার বলার পরও কোনো কাজ হয়নি। ইটভাটার মালিকপক্ষ কোনো কথা শোনে না। চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কে রাস্তার সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। রাস্তার ওপর মাটি পড়ে থাকা অবস্থায় সংস্কারকাজ করলে কাজের গুণগত মান ভালো হবে না। এ জন্য প্রতিদিনই ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক নিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা মাটি অপসারণ করতে হচ্ছে। মৌখিকভাবে একটি ইটভাটা আমাদের কথা শুনেছে। অন্য পাঁচটি ভাটার মালিক আমাদের কথায় কর্ণপাত করেননি। পরে লিখিতভাবে চিঠি দিয়ে খোলা যানবাহনে মাটি বহন করতে নিষেধ করা হয়। তাতেও কোনো কাজ হয়নি। এ ব্যাপারে আমরা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা