kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

ভালুকায় সেতুর মুখে চেয়ারম্যানের বাঁধ

মাছ চাষের পরিকল্পনা
জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশঙ্কা এলাকাবাসীর

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভালুকায় সেতুর মুখে চেয়ারম্যানের বাঁধ

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বাঁশিল গ্রামে উজানে মাছ চাষের জন্য সদ্য নির্মিত সেতুর সামনে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বাঁশিল গ্রামে উজানে মাছ চাষের জন্য সদ্য নির্মিত সেতুর সামনে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শিহাব আমিন খানের নির্দেশে এ কাজ চলছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, ভালুকা সদর ইউনিয়নের মেহেরাবাড়ী-বাঁশিল সড়কের লতাকানী খালের ওপর ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ৩০ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়। এখন বাঁধ দিয়ে খালের মুখ বন্ধের পাঁয়তারা চলছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় এনামুল হক, আলাল উদ্দিন, শাজাহান ও আলম জানান, বাঁধটি নির্মাণ করা হলে বর্ষার পানিতে উজানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে খালের দুই পারের শতাধিক পরিবারের ব্যাপক ক্ষতি হবে। কাজেই বাঁধটি যাতে নির্মাণ না করা হয় সে জন্য একাধিকবার বাধা দিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু তাঁদের কোনো বাধাই মানা হচ্ছে না। অবশেষে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘খালের পানিপ্রবাহ ব্যাহত না হওয়া এবং জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার জন্য ওই স্থানে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। সুতরাং সেতুর সামনে বাঁধ দেওয়া কোনোভাবেই সমীচীন হবে না।’

দেশের বাইরে থাকায় এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান শিহাব আমিন খানের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে মাছ চাষ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ইউপি চেয়ারম্যানের ফুফাতো ভাই খোকন বেপারী বলেন, ‘সেতু নির্মাণের আগে ওই স্থানে রিং পাইপ বসানো ছিল। ওই পাইপের উজানে এর আগেও মাছের চাষ করা হয়েছে। তখন কারো কোনো ক্ষতি হয়নি। তাই চেয়ারম্যান সাহেব সেখানে মাছ চাষের উদ্যোগ নিয়ে বাঁধ নির্মাণ করছেন। এতে আগামী দিনেও কোনো ক্ষতি হবে না বলে মনে করি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ কামাল জানান, গ্রামবাসীর দরখাস্তের বিষয়টি তদন্ত করার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এতে গ্রামবাসীর অভিযোগের সত্যতা পেয়ে চেয়ারম্যানের লোকজনকে বাঁধ নির্মাণে নিষেধ করে এসেছেন। একই সঙ্গে দুই দিনের মাঝে বাঁধের মাটি অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা