kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

শাহজাদপুর

কৃষিজমির মাটি ১৮ ইটভাটায়

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি    

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে কৃষিজমির উপরিভাগ থেকে দেদার মাটি কেটে ১৮টি ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, ভাটা নির্মাণের অনুমতি বা লাইসেন্স দেয় জেলা প্রশাসন। আর জেলা প্রশাসন বলছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়ার পরই তারা ভাটা তৈরির অনুমতি দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলার মাত্র তিনটি ভাটার ছাড়পত্র আছে। অন্যগুলো ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে।

আরো জানা যায়, গ্রামীণ সড়ক, পাকা ভবনসহ বিভিন্ন নির্মাণকাজে ইটের ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে গেছে। ফলে এ উপজেলায় বেড়ে গেছে ইটের চাহিদাও। আর ইট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহূত হয় মাটি। তাই প্রভাবশালীদের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে কৃষিজমির মালিকদের কাছ থেকে মাটি কেটে নিচ্ছেন ভাটার মালিকরা।

উপজেলা ভূমি ও কৃষি অফিসের কাছ থেকে ভূমির শ্রেণি যাচাই-বাছাইয়ের পর লিখিত অনুমতি পেলেই কোনো জমির মালিক তাঁর জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে সেই জমি থেকে মাটি বিক্রি বা পুকুর খনন করতে পারবেন। কিন্তু উপজেলায় কোনো নিয়মনীতি ছাড়াই এক, দুই ও তিন ফসলি জমি থেকে ভাটায় মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া কৃষিজমি, আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলজিইডির সড়কগুলোর পাশে ভাটা নির্মাণ করার নিয়ম না থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, গাড়াদহ ও কায়েমপুর ইউনিয়নে মোট ১৮টি ভাটা আছে। এর মধ্যে গাড়াদহ ইউনিয়নেই আছে ১২টি। এ ইউনিয়নের মশিপুর ব্লকে সাতটি, টেপরি ব্লকে তিনটি ও গাড়াদহ ব্লকে দুটি ভাটা আছে। এ ছাড়া কায়েমপুর ইউনিয়নের কায়েমপুর ব্লকে চারটি ও শিমুলতলী ব্লকে দুটি ভাটা আছে। সবগুলো ভাটাই আবাসিক এলাকা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খুব কাছে নির্মাণ করা হয়েছে।

ভাটাগুলোর মধ্যে তিনটি গাড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের। এর মধ্যে দুটি মশিপুর ব্লকে ও একটি টেপরি ব্লকে। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মো. শামসুজ্জোহা জানান, ভাটা তৈরির আগে কৃষি অফিস ও ভূমি অফিস থেকে অনুমতি নিতে হয়। তা পরিবেশ অধিদপ্তরে জমা দিলে তারা যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসনের কাছে মতামত পাঠায়। আর তা যাচাই-বাছাইয়ের পর জেলা প্রশাসন উপযুক্ত স্থানে ভাটা তৈরির অনুমতি দিয়ে থাকে।

জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদের ভাষ্য, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়ার পর তবেই ভাটা তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়।’

তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের (বগুড়া) উপপরিচালক আকতারুজ্জামান টুকুর দাবি, ‘ভাটার লাইসেন্স সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক মহোদয় দিয়ে থাকেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের কাজ কেউ পরিবেশ বিনষ্ট করছে কি না তা দেখা।’ অন্যদিকে সংশ্লিষ্টরা যদি মাটি কাটা বন্ধ করতে না পারে তাহলে খুব শিগগির শত শত বিঘা কৃষিজমি হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা