kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

মাধবপুর

অনিবন্ধিত সংস্থার কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হবিগঞ্জের মাধবপুরে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কোটি কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করছে নিশান নামের একটি সংস্থা। স্বাস্থ্য ও পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটির নাম করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনে সচেষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এই আমানত সংগ্রহ করছে সরকারি নিবন্ধন না থাকা সংস্থাটি। উপজেলার তেলিয়াপাড়ায় প্রধান কার্যালয় হলেও আশপাশের জেলাগুলোতে বেশ কিছু শাখা স্থাপন করা হয়েছে।

নিশান কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মাধবপুরে তিনটি, চুনারুঘাটে তিনটি, শায়েস্তাগঞ্জে একটি, শ্রীমঙ্গলের পূর্বাশা এলাকায় তিনটি, মৌলভীবাজারের ভৈরব বাজারে একটি, ভানুগাছে একটিসহ মোট ১২টি শাখা অফিস করে আর্থিক লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছিল সংস্থাটি। ২০০৭ সাল থেকে কয়েক হাজার গ্রাহকের সঙ্গে এই লেনদেন করে আসছে। অধিক মুনাফা প্রাপ্তির লোভে কোনো গ্রাহকই ওই প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করতে আগ্রহী হয়নি। তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্রে মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি বোর্ডের অনুমোদন নম্বর ০০৭৪, সমবায় কার্যালয়ের নিবন্ধন নম্বর ১১৫৭, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিশান স্বাস্থ্য ও পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটি নিবন্ধন নম্বর এস-৮২৭ (২৯৮) এবং সমাজসেবা কার্যালয়ের নিবন্ধন নম্বর ৬২৪ উল্লেখ করে অর্থনৈতিক লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সাল থেকে নিশান সমাজ কল্যাণ সংস্থা নিবন্ধন নম্বর ৬২৪-এর কমিটির নবায়ন না থাকায় এবং ওই নিবন্ধনের সব শর্ত ভঙ্গ করায় এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০১২ সালে মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি বোর্ডের অনুমোদনের জন্য যে আবেদন দাখিল করা হয়, সেই আবেদনের ০০৭৪ নম্বর দিয়ে লেনদেন করলেও অনুমোদন পাওয়ার শর্ত পূরণ করতে না পারায় ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদন ছাড়াই সংস্থাটি কোটি কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করছে। লাখে দুই হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা মাসে লাভ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংস্থাটির প্রশিক্ষিত কর্মীরা নিজেদের ব্যাংক দাবি করে প্রচুর লাভের প্রলোভন দেখিয়ে লোকজনের কাছ থেকে আমানত নিচ্ছে। ১৫০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে শুধু আমানত জমাকারী ও নমিনির ছবি লাগালেও আমানত গ্রহণকারী কর্মকর্তার ছবি লাগানো হয় না। স্ট্যাম্পে ব্যবহার করা হয় না সংস্থার নাম বা স্বাক্ষরকারী কর্মকর্তার পদবি।

তবে অর্থনৈতিক কার্যক্রমসহ সব ধরনের অনুমোদনের বৈধতা রয়েছে বলে দাবি করেন নিশান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন বেলাল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা