kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ অর্ধেকও শেষ হয়নি!

কৃষকরা বলছে, বেশির ভাগ বাঁধেই গোড়া থেকে মাটি তোলার কারণে শুরু থেকেই বাঁধগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে

শামস শামীম, সুনামগঞ্জ   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ অর্ধেকও শেষ হয়নি!

সুনামগঞ্জের বরাম হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধস। ছবি : কালের কণ্ঠ

সুনামগঞ্জে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ অর্ধেকও সম্পন্ন হয়নি। গত ১৫ ডিসেম্বর শুরু হওয়া প্রকল্পের কাজ আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ করার কথা থাকলেও এই সময়ে এসে তা শেষ হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। তা ছাড়া বেশির ভাগ প্রকল্পেই এখন পর্যন্ত কম্পেকশন ও দূর্বাঘাস লাগানো হয়নি। কোথাও আবার কাজই শুরু হয়নি।

এদিকে এবারও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে অধিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীকে বিষয়টি জানিয়ে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন হাওর আন্দোলনের নেতারা। তাঁরা বাঁধের কাজে অনিয়ম, ধীরগতি, অপ্রয়োজনীয় ও অক্ষত প্রকল্পে বরাদ্দ দান, পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠনে দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, সমাবেশসহ স্মারকলিপিও দিয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত জেলায় ৭৪৯টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬৮ কোটি টাকা। সব প্রকল্পে ৬৩৩.৬৯ কিলোমিটার বাঁধের জন্য প্রাক্কলন করা হয়েছে ১২৮.৮৪ কোটি টাকা। গতবারের বেশির ভাগ বাঁধই অক্ষত থাকার পরও এবার প্রকল্প ও বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে বলে প্রশাসন আয়োজিত বাঁধের অগ্রগতিবিষয়ক মতবিনিময়সভায় কৃষক নেতারা বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করেছেন। তা ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন সচিবের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায়ও অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি আলোচনা হয়েছে।

কৃষক ও হাওর আন্দোলনের নেতারা হাওর পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, এখনো অর্ধেকের বেশি কাজ বাকি রয়ে গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে গঠিত পিআইসি অর্ধেক বিলও পেয়ে গেছে। অবশিষ্ট বিল তুলতে তারা তৎপরতা চালাচ্ছে।

বরাম হাওরের একাধিক প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধস দেখা দিয়েছে। ওই হাওরের ছাটাখাউরিতে পাশাপাশি দুটি বাঁধে নিম্নমানের কাজ হচ্ছে। এই হাওরসহ অন্যান্য হাওরের বাঁধের কম্পেকশন ও দূর্বাঘাস লাগানোর কাজ এখনো শুরু হয়নি।

জামালগঞ্জের লালুরগোয়ালা বাঁধের কাজ এখনো অর্ধেকও হয়নি। এই বাঁধের কাজে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনসহ জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগও করা হয়েছিল। বাঁধের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর প্রকল্পের কাজও সন্তোষজনক নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কৃষকরা বলছে, বেশির ভাগ বাঁধেই গোড়া থেকে মাটি তোলার কারণে শুরু থেকেই বাঁধগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে। বৃষ্টি হলে বা পাহাড়ি ঢলের প্রথম ধাক্কা এসব বাঁধ সামলাতে পারবে না বলে মনে করে কৃষকরা।

শাল্লা উপজেলার বরাম হাওরের ১২, ১৪, ১৫, ৩৯, ৩৬ নম্বর পিআইসি ঘুরে দেখা গেছে, এই হাওরের কাশিপুরের পূর্ব প্রান্তে একটি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর সভাপতি স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে রেজাউল করিম লিটন। সাত লাখ টাকার ওই প্রকল্পের কাজ এখনো শুরুই হয়নি। উপজেলার ১৪ নম্বর পিআইসি বাঁধের কাজে গোড়া থেকেই মাটি উত্তোলন করায় মাটি ধসে পড়ছে। তাহিরপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, জগন্নাথপুরসহ অন্যান্য এলাকার বাঁধের কাজের অবস্থাও একই রকম বলে জানা গেছে।

জামালগঞ্জের কৃষক নেতা আবুল কাশেম বলেন, এবার বেশির ভাগ প্রকল্পেই অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। তা ছাড়া ধীরগতির কারণে যথাসময়ে কাজ শেষ হবে না। এ কারণে কৃষকরা ফসল নিয়ে শঙ্কায় আছে।

হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেনরায় বলেন, ‘এবার অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে বরাদ্দ দিয়ে সরকারি অর্থ অপচয়ের মচ্ছব চলছে। আমরা মন্ত্রীসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রকল্পের নাম ধরে অভিযোগ করেছি। মানববন্ধন, সমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি দিয়েছি।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও কাবিটা মনিটরিং ও বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব মো. সবিবুর রহমান বলেন, প্রায় সাড়ে ৭০০ প্রকল্পের কাজ চলছে। বিভিন্ন এলাকায় পানি দেরিতে নামার কারণে কাজেও দেরি হচ্ছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করে পিআইসিকে ৫০ শতাংশ বিল দেওয়া হয়েছে। মাটি ভরাটের পাশাপাশি বাঁধের কম্পেকশন ও ঘাস লাগানোর কাজও চলছে। কোথাও অনিয়ম হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কাবিটা মনিটরিং ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, ‘মনিটরিং টিম নিয়ে নিয়মিত হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ পরিদর্শন করছি। কোথাও ত্রুটি পেলে সংশোধনের নির্দেশনা দিচ্ছি। কোথাও অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও কাজের মানে ত্রুটি থাকলে তা আমাকে জানাতে বলছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা