kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

মহাসড়কে ঝুঁকে পড়া গাছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

‘হঠাৎ ঝুঁকে পড়া গাছের কাছে দুটি গাড়ি পাশাপাশি এলে তখনই দুর্ঘটনা ঘটে’

কে এম সবুজ, ঝালকাঠি ও মেহেদী হাসান জসীম, রাজাপুর   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহাসড়কে ঝুঁকে পড়া গাছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠির রাজাপুর অংশের মধ্য বাঘরি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে হেলে আছে দুটি গাছ। ছবি : কালের কণ্ঠ

বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠির রাজাপুর অংশের বিভিন্ন স্থানে ডজনখানেক গাছ সড়কের ওপর বিপজ্জনকভাবে ঝুঁকে রয়েছে। ফলে ঘন কুয়াশা ও রাতে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলো ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঝুঁকে থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন পরিবহনের চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা যায়, সম্প্রতি আঞ্চলিক এ মহাসড়কটির দুই পাশ তিন ফুট করে মোট ছয় ফুট প্রশস্ত করা হয়। বর্তমানে প্রশস্ত করা মসৃণ সড়কে যানবাহন চলছে দ্রুতগতিতে। আঞ্চলিক এ মহাসড়কের ঝালকাঠির রাজাপুর অংশের প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়কের ছত্রকান্দা, উত্তর বাঘরি, মধ্য বাঘরি, বাঁশতলা, কৈবর্তখালী, নৈকাঠিসহ ডজনখানেক স্থানে বিপজ্জনকভাবে গাছ ঝুঁকে থাকলেও তা কাটা হয়নি। ফলে দ্রুতগতির বড় যানবাহনগুলো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। ঝুঁকে পড়া প্রতিটি গাছের গায়ে গাড়ির আঘাতের প্রচুর ক্ষতচিহ্ন থাকলেও কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে উদাসীন।

রাজাপুরের উত্তর বাঘরি এলাকার বাসিন্দা বিকাশ চন্দ্র হালদার বলেন, ‘সম্প্রতি গভীর রাতে উত্তর বাঘরি এলাকায় ঝুঁকে থাকা রেইন্ট্রি গাছের সঙ্গে একটি কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কা লাগে। এতে গাড়িটির ওপরের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। এ ছাড়া গাড়ির চালক ও তাঁর সহযোগী আহত হন। রাত আড়াইটার সময় বিকট শব্দ শুনে এলাকাবাসী সড়কে বের হয়ে এ অবস্থা দেখতে পায়। পরে আহতাবস্থায় চালক গাড়ি নিয়ে বরিশাল চলে যান।’

পরিবহনের চালক টিপু সুলতান বলেন, ‘ঝুঁকে পড়া গাছের কারণে আমাদের বড় গাড়িগুলো প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিশেষ করে রাতে দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। যখন ঘন কুয়াশা থাকে, তখন দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরো বেড়ে যায়। তাই অবিলম্বে এই ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো অপসারণ করা প্রয়োজন।’

ট্রাকচালক মো. আশিক বলেন, ‘মহাসড়কে সাধারণত বড় গাড়িগুলো ৮০-১০০ মাইল বেগে চলে। হঠাৎ ঝুঁকে পড়া গাছের কাছে দুটি গাড়ি পাশাপাশি এলে তখনই দুর্ঘটনা ঘটে। যেসব চালক ঝুঁকে পড়া গাছের কথা জানেন না, তাঁদের বিপদে পড়ার আশঙ্কা বেশি। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।’

কাভার্ড ভ্যানের চালক কাঞ্চন খান বলেন, ‘একটি বাস ১২-১৫ ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। একটি পণ্য বোঝাই ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান ১৫-২৫ ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। এখানে গাছগুলো খুবই বিপজ্জনকভাবে হেলে আছে। দুটি বড় গাড়ি পাশাপাশি এলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীমা আক্তার বলেন, ‘গাছগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হলে অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে। একটি প্রতিনিধিদল পরিদর্শনে পাঠানোর পরে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা