kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

দুই যুগেও চালু হয়নি তামাই ইটিপি প্লান্ট

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই যুগেও চালু হয়নি তামাই ইটিপি প্লান্ট

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার তামাই তরল বর্জ্য শোধনাগার। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রায় দুই যুগ পার হলেও সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার তামাই তরল বর্জ্য শোধনাগারটি (ইটিপি প্লান্ট) চালু হয়নি। ২২ বছর ধরে শোধনাগারটি চালু না হওয়ায় বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য। তদারকির অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে প্লান্টের বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি। বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারও চুরি হয়ে গেছে। এদিকে অপরিশোধিত পানি ব্যবহারের ফলে এলাকাবাসী নানা রকম রোগে ভুগছে।

জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে পরিবেশ অধিদপ্তরের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে পানি শোধনাগারটি নির্মাণ শুরু হয়। তখন প্রকল্পটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনও পায়। অথচ কাজ শুরুর মাঝামাঝি সময়ে এসে বন্ধ হয়ে যায়।

জেলার বেলকুচি উপজেলায় তাঁত শিল্পসমৃদ্ধ তামাই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় তাঁত শিল্পের কাঁচামালসহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক বর্জ্য মিশ্রিত পানি প্রতিনিয়ত খাল-বিলে ফেলা হচ্ছে। এই পানি আবার পুকুরের গভীরে গিয়ে মাটির ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে মিশে নলকূপগুলোর মাধ্যমে আবার তা উঠে আসছে। শোধন ছাড়াই এসব দূষিত পানি পান করে নানা রকম রোগে ভুগছে এলাকাবাসী। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই এলাকার মানুষকে দূষিত পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে একটু বৃষ্টি হলেই গ্রামটির পুকুরগুলোতে জমে বর্জ্যমিশ্রিত পানি। স্থানীয় সুতা প্রক্রিয়াকরণ কারখানার মালিকরা সেই পুকুরের পার কেটে দিলে এই পানি আবার যায় স্থানীয় হুড়া সাগর নদীতে। এ কারণে এই নদীও হারাতে বসেছে তার প্রাণবৈচিত্র্য।

উপজেলার মধ্যপাড়া মহল্লার মল্লিকা বেগম জানালেন, তাঁদের বাড়ির চারপাশের পুকুরে বর্জ্যমিশ্রিত পানি থাকার কারণে সেখানে কোনো মাছ নেই। সেই সঙ্গে তাঁর বাড়ির দুটি নলকূপে একটিতে বর্জ্যমিশ্রিত পানি বের হয়। আরেকটিতে একটু ভালো পানি উঠলেও তাতেও কিছুটা বর্জ্যের মিশ্রণ আছে বলে তাঁর ধারণা। তবুও সেই পানিই তাঁদের খেতে হচ্ছে।

উপজেলার কাজিপুরা সবুজপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মাঝেমধ্যে সুতা প্রক্রিয়াকরণ কারখানার বর্জ্য মিশ্রিত পানি কারখানার মালিকরা নদীতে ছেড়ে দেয়। তখন হুড়া সাগর নদীতে অনেক দেশি মাছের মৃত্যু হয়। আমরা স্থানীয়রা নিষেধ করলেও বিষয়টি কারখানা মালিকরা শোনেন না।’

ইটিপি প্লানটির উদ্যোক্তা তামাই গ্রামের আব্দুল লতিফ বাদল বলেন, ‘কোনো চক্রান্তের কারণে আমাদের এই প্লান্টটি নির্মাণের শেষ পর্যায়ে বন্ধ হয়ে ২২ বছরেও চালু হচ্ছে না। বিষয়টি তদন্ত করে প্লানটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্লান্টটি চালুর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা