kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

সুন্দরগঞ্জের প্রাথমিক বিদ্যালয়

বায়োমেট্রিক হাজিরায় আগ্রহী নন বেশির ভাগ শিক্ষক!

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সারা দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক হাজিরা সিস্টেম চালুর সরকারি সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আগ্রহ নেই গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বেশির ভাগ শিক্ষকের। এমনই অভিযোগ তুলেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। যে কারণে উপজেলার ২৫৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২১৭টি বিদ্যালয়ে বাধ্যবাধকতা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে বায়োমেট্রিক মেশিনই কেনেনি।

জানা গেছে, গত বছরের ২৬ জুন এক চিঠিতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, সরকারি বিদ্যালয়গুলো স্লিপের ফান্ড থেকে স্কুল পরিচালনা কমিটি ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কিনবে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও উপজেলার বেশির ভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয় ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনেনি। তবে গত ৩০ জুন ভুয়া বিল-ভাউচারে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এসব অর্থ উত্তোলন করে নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূত্র মতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) প্রকল্পের আওতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কিনতে প্রায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পাঠানো চিঠিতে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন স্লিপ প্রকল্পের ২৫ হাজার টাকা দিয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কিনতে বলা হয়। তাতে প্রায় ৬৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা শুধু ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কিনতে বরাদ্দ রাখা হয়। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে বরাদ্দ টাকা জমা রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে গত ৩০ জুন সব বিদ্যালয় ডিজিটাল হাজিরা মেশিন না কিনে ভুয়া বিল-ভাউচারে টাকা উত্তোলন করা হয়।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধানরা দাবি করেন, গত ডিসেম্বরে শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে স্লিপের টাকায় বায়োমেট্রিক হাজিরা না কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়। সে কারণে তারা স্লিপের টাকায় বায়োমেট্রিক হাজিরা কেনেনি। পরবর্তী চিঠি না পাওয়া পর্যন্ত বায়োমেট্রিক হাজিরা কেনা থেকে বিরত থাকবে প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম হারুন-উর-রশিদ বলেন, শিক্ষকরা বিভিন্ন সময় স্কুলে অনুপস্থিত থাকেন। পরে আবার হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু হলে তারা বিদ্যালয় ফাঁকি দিতে পারবে না বলেই এখনো হাজিরা মেশিন কেনেনি। স্লিপের টাকায় বায়োমেট্রিক কেনা বন্ধ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত অর্থবছরের স্লিপের টাকায় বায়োমেট্রিক কেনার কথা বলা হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরে যেন স্লিপের টাকায় বায়োমেট্রিক কেনা না হয় সেই নির্দেশনা দিয়েছে অধিদপ্তর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা