kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

রানীনগরে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

রানীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নওগাঁর রানীনগর উপজেলার শিয়ালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থী ভর্তি, প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড, ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ রয়েছে ওই প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার পূর্ব দিকে একডালা ইউনিয়নের শিয়ালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৪৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর প্রধান শিক্ষিকা লায়লা আরজুমান বেশ কয়েকজন ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে তাদের নামে উপবৃত্তি তুলে ভোগ করেন। পাঁচজন প্রতিবন্ধীর ভাতার কার্ড করে দিয়ে টাকা আদায় করেন তিনি। তা ছাড়া বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করার সময় অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেন। বিদ্যালয়ের পুরনো ভবন অপসারণের জন্য দরপত্র দেওয়া হলে তাঁর স্বামী একই ইউনিয়নের উজালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদৎ হোসেন সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভবন স্বল্প টাকায় দরপত্র নেন। এর বাইরে স্কুলের ৫০-৬০টি বেঞ্চ পর্যন্ত বিক্রি করে দেন।

ওই বিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী শ্রাবণী, জলি, মিম বলে, ‘ভাতার কার্ড করতে ম্যাডামের নাকি টাকা খরচ হয়েছে। তাই আমাদের কাছ থেকে দেড় হাজার টাকা করে নিয়েছেন।’

প্রধান শিক্ষিকা লায়লা আরজুমান ভাতার কার্ড করার পর অভিভাবকরা খুশি হয়ে তাঁকে মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকা দিয়েছে বলে দাবি করেন। প্রধান শিক্ষিকা ছাত্র ভর্তির জন্য টাকা নেওয়া হয়নি দাবি করলেও শিশু শ্রেণিতে ভর্তি সাদিয়ার অভিভাবক মনিরুল ইসলাম জানান, তাঁর মেয়ে ও চাচাতো বোনকে ভর্তি করাতে ২০০ টাকা নিয়েছেন। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাছলিমার খালা আশরাফুন জানান, তাছলিমাকে ভর্তি করাতে প্রধান শিক্ষিকা তাঁর কাছে ৬০০ টাকা দাবি করেন। পরে ৫০০ টাকা দিয়ে ভর্তি করেছেন। উপবৃত্তির তালিকায় ভুয়া শিক্ষার্থী হিসেবে স্থান পাওয়া এক শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, ‘আমার ছেলে-মেয়েরা প্রায় দেড় বছর আগে পড়ালেখা বাদ দিয়েছে। আমরা কোনো উপবৃত্তির টাকা পাই না।’

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফির বাবা এনামুল বলেন, ‘আমার মেয়ে দুই বছর ধরে পাশের দীঘিরপার মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে। শিয়ালা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উপবৃত্তির টাকা কখনো পাইনি।’

শিয়ালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লায়লা আরজুমান বলেন, উপবৃত্তির তালিকায় কিছুটা গরমিল আছে।

রানীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাসার শামছুজ্জামান বলেন, বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা