kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ঘুষ ছাড়া হয় না নামজারি

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঘুষ ছাড়া হয় না নামজারি

যশোরের মণিরামপুরে বন্ধ রয়েছে আইডিএলআরএস (ইন্টিগ্রেটেড ডিজিটাল ল্যান্ড রেকর্ডস সিস্টেম) সফটওয়্যারের মাধ্যমে জমির নামজারি সুবিধা। ‘স্ট্রেংদেনিং অ্যাকসেস টু ল্যান্ড অ্যান্ড প্রপার্টি রাইট ফর অল সিটিজেনস অব বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় ২০১৬ সালের ৩ মে চালুর পর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিকল হয়ে পড়ে আইডিএলআরএসের সংশ্লিষ্ট সার্ভার। পরে ২০১৮ সালে অনলাইনভিত্তিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নামজারি, পরচা ও সার্টিফাই কপি নেওয়ার সুবিধা চালু হয়। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তারা ঘুষ বাণিজ্যে নেমে পড়েন।

সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে উপজেলার চালুয়াহাটী, মশ্বিমনগরম পৌরসভা ও সদর মণিরামপুর ইউনিয়নে আইডিএলআরএস সফটওয়্যার কার্যক্রম চালু হয়। প্রকল্পের আওয়তায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এলটি নোটিশ মেসেজ আকারে ভূমি অফিসে যেত। ফলে কোনো ঝামেলা ছাড়াই নামজারির কাজ সম্পন্ন হয়ে যেত। চালুর পর ২০১৮ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে আসা এলটি নোটিশের মাধ্যমে তিন হাজার সাতটি নামজারির কেস নিষ্পত্তি হয়। বাকি ১৮০টি কেস সার্ভার বিকল হওয়ায় আটকে যায়।

কিন্তু আইডিএলআরএস সফটওয়্যার কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর অনলাইনভিত্তিক নামজারি ব্যবস্থা চালু হলে ২০১৮ সালের ১৩ নভেম্বর ভূমি অফিস নামজারি নিষ্পত্তি কার্যক্রম শুরু করে। সেই থেকে আজ অবধি আট হাজার ৮০৪টি কেস ফাইল হয়, যার মধ্যে পাঁচ হাজার ৫৮৫টি কেস নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি তিন হাজার ২৩২টি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু এ পদ্ধতির সুফল পেতে জমি মালিকদের চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তাদের অতি লোভের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে জমি মালিকদের। জমির নামজারি কার্যক্রমে এক হাজার ১৭০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও নানা টালবাহানা করে চার-পাঁচ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন সহকারী ভূমি কর্মকর্তারা। হয়রানির কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ই-সেবা কেন্দ্র থেকে মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়ে আবেদন করার প্রথা চালু করলেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তারা। তাঁদের কাছে গিয়ে আবেদন না করলে দিনের পর দিন ঘোরাতে থাকেন জমি মালিকদের। ফলে জমি মালিকরাও ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নামজারির জন্য আবেদন করতে বাধ্য হন।

উপজেলার মধুপুর গ্রামের কনোজ নামের এক ব্যক্তি বলেন, কয়েক মাস আগে স্থানীয় সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেনের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে নামজারির জন্য আবেদন করেন।

মণিরামপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, নামজারি করতে স্থানীয় সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের কাছে গেলে সাড়ে তিন হাজার টাকা চান তিনি। পরে ই-সেবা থেকে ১০০ টাকা দিয়ে আবেদন করার পর কাগজপত্র তাঁর কাছে গেলে চরম হয়রানির শিকার হতে হয়।

তবে হরিদাসকাটি ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

এ ব্যাপারে ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন বলেন, মধুপুর গ্রামের কনোজের কাগজপত্র সমস্যা থাকায় টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছিল।

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্বাস উদ্দীন বলেন, হয়রানি ছাড়া নামজারির কাজ সম্পন্ন করতে ফের আইডিএলআরএস সফটওয়্যার কার্যক্রম চালু করা হোক।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসান বলেন, আইডিএলআরএস সফটওয়্যার প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা আর বৃদ্ধি পায়নি। আর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা