kalerkantho

শুক্রবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৭ সফর ১৪৪২

রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু চত্বর নির্মাণ

ঠিকাদারের সঙ্গে কর্তাদের আঁতাত

বরাদ্দের অন্তত তিন কোটি টাকা লোপাটের পাঁয়তারা

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজশাহী নগরীর তালাইমারী মোড় এলাকায় নির্মাণ হবে ‘বঙ্গবন্ধু চত্বর’। এ কাজের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা। এরই মধ্যে কাজটির জন্য ঠিকাদার নির্বাচন করে কার্যাদেশও দিয়েছে সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)। কিন্তু কাজটি করতে গিয়ে তারা নানা অপকৌশল গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ প্রকল্প নিয়ে আরডিএ কর্মকর্তাদের অনিয়মের কারণে সরকারকে কমপক্ষে তিন কোটি টাকা গচ্চা দিতে হবে। এর আগে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজটি পাইয়ে দিতে দরপত্রে নানা ধরনের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে অন্য কোনো ঠিকাদার দরপত্রে অংশ নিতে পারেননি। অন্যদিকে দরপত্রে কিছু নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বাজারদরের চেয়ে দুই-তিন গুণ হারে বেশি দেখানো হয়েছে। মোট কথা কাজটি নিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে আঁতাত করে বড় ধরনের একটি দুর্নীতির ফাঁদ পাতা হয়েছে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে আরডিএজুড়ে। এরই মধ্যে অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

রাজশাহীর ঠিকাদাররা জানান, রাজশাহীর তালাইমারী মোড়ে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চত্বর’ নির্মাণকাজটি করার জন্য রাজশাহী ও ঢাকার অনেক ঠিকাদারই আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু একাধিক ঠিকাদার এই দরপত্রে যেন অংশ নিতে না পারেন—এ কারণে ইচ্ছামতো শর্ত জুড়ে দেন নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল তারিক। মূলত পছন্দের ‘দি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড আর্কিটেক লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি পাইয়ে দিতে কমপক্ষে সাতটি বাড়তি শর্ত জুড়ে দেন তিনি। এতে অন্য কোনো ঠিকাদার দরপত্রে অংশ নিতে পারেননি। ফলে কাজটি পায় ওই প্রতিষ্ঠানটিই। অথচ এই দরপত্রে একাধিক ঠিকাদার অংশ নিতে পারলে প্রাক্কলিত মূল্য ২৯ কোটি ২৩ লাখ ২৩ হাজার টাকার চেয়ে প্রায় তিন কোটি টাকা কম দর দিয়ে কাজটি দিতে পারত আরডিএ। এতে সরকারের অনেক টাকা সাশ্রয় হতো।

আরডিএ সূত্র মতে, গত বছরের ২০ নভেম্বর আরডিএ ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চত্বর’ নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। দরপত্রে বিশেষ সাতটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। ফলে পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে এসব শর্ত পূরণ করে দরপত্র পায় ‘দি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড আর্কিটেক লিমিটেড’।

রাজশাহীর জামাল কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘দরপত্রটি পছন্দের ঠিকাদারকে পাইয়ে দিতে নানা কৌশল অবলম্বন করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।’ শহিদুল ইসলাম নামের আরেক ঠিকাদার বলেন, ‘চরম দুর্নীতিগ্রস্ত আরডিএর কর্মকর্তারা। তাঁরা বঙ্গবন্ধুর নামে চত্বর নির্মাণেও অর্থ লুটপাটে নেমেছেন। কিন্তু এ কাজ যদি অন্য ঠিকাদার করতেন তাহলে সরকারের অন্তত তিন কোটি টাকা সাশ্রয় হতো। সেই বাড়তি টাকা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীসহ আরডিএর দায়িত্বরত কর্মকর্তারা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন।’

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল তারিক বলেন, ‘এসব নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’ আরডিএর ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা বদরুদ্দোজা বলেন, ‘এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীই ভালো জানেন।’ এ ব্যাপারে কথা বলতে আরডিএর চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

প্রসঙ্গত, গত ১১ ডিসেম্বর এই দরপত্র নিয়ে কালের কণ্ঠে ‘পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিতে দরপত্রে ইচ্ছামতো শর্ত’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী খবর প্রকাশিত হয়। শেষ পর্যন্ত সে কাজটিই করেছে আরডিএ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা