kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

ভরা নদীতে চলছে খনন

পীরগঞ্জে জলে যাচ্ছে তিন কোটি টাকা

রংপুর অফিস   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রংপুরের পীরগঞ্জে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে বিএডিসির (সেচ) অধীনে আখিরা মরা নদী খননে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভরা নদীতে খননকাজ করায় গ্রামবাসীর মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শুভঙ্করের ফাঁকির ঘটনা ঘটছে বলে এলাকাবাসী জানায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পীরগঞ্জের রায়পুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর থেকে শুরু হয়ে বড় আলমপুর, কাবিলপুর ইউনিয়ন হয়ে রামনাথপুর ইউনিয়নের ধাপেরহাটে মরা আখিরা মূল নদীতে সম্পৃক্ত হয়েছে। প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নদীটি খনন করা হচ্ছে। বাহাদুরপুর থেকে ধাপেরহাট পর্যন্ত ১০টি গ্রুপে দুই কিলোমিটার করে মোট ২০ কিলোমিটার খননের জন্য ১০ জন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরের মেসার্স হাবিবুর রহমান ট্রেডার্স, কামরুজ্জামান ট্রেডার্স, রুমি কনস্ট্রাকশন, হারুন অর রশিদ ট্রেডার্সসহ ১০টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খননের কার্যাদেশ পায়। কিন্তু অধিকাংশ ঠিকাদারই সাব ঠিকাদারের কাছে কাজ বিক্রি করে দেওয়ায় লভ্যাংশ ঠিক রাখতে অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পীরগঞ্জ-চতরা সড়কের কদমেরঘাট সেতুর পশ্চিমে চার কিলোমিটার এবং পূর্বে আট কিলোমিটার অংশে নদীর কোমর পানিতে খননকাজ চলছে। পানি শুকিয়ে খনন করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। তদারকি কর্মকর্তাও নেই। নদীর দুই পার উঁচু করে নদীর গভীরতা দেখানো হচ্ছে। অন্যদিকে নদীর কোথাও কাজের সাইনবোর্ড টাঙানো হয়নি।

গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, কাজের ব্যাপারে কিছু বললেই ঠিকাদারের লোকজন উল্টাপাল্টা হুমকি দেয়। নওগাঁর বাহাদুর মিয়া চার কিলোমিটার এবং রংপুরের সোহাগ মিয়া আট কিলোমিটার নদী খননে সাব ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছেন। অপর চার ঠিকাদার এখনো কাজ শুরু করেনি।

সাতগড়া এলাকার রফিকুল ইসলাম, ধুলগাড়ীর আজিজুল ইসলাম ও দারিয়াপুরের গোলাম মোস্তফা বলেন, তাঁরা এখনো নদীতে জাল দিয়ে মাছ ধরছেন। অথচ পানিতেই নদী খনন করা হচ্ছে। তা ছাড়া খননকাজের সাইনবোর্ড না থাকায় নদীর গভীরতাও জানা যাচ্ছে না।

সাব ঠিকাদার বাহাদুর মিয়ার ম্যানেজার আব্দুল কাইয়ুম বলেন, পানি শুকিয়ে কাজ করার কথা। কিন্তু তা করা হচ্ছে না। অনেক ঠিকাদারই এভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান চৌধুরী দুলাল বলেন, খননকাজের ডিজাইন ও শিডিউল দেখতে চাইলেও এসও সাহেব তা দেখাননি। এমনকি নদী খনন শুরু করার বিষয়টিও গোপন রেখেছেন।

কাবিলপুর ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম ও রামনাথপুর ইউপির চেয়ারম্যান সাদেকুল ইসলামও অভিন্ন কথা বলেন। এদিকে বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, এখনো কাজ পরিদর্শন করার সুযোগ হয়নি। কাজের শেষে সাইনবোর্ড দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রংপুর বিএডিসির (সেচ) নির্বাহী প্রকৌশলী নিজামুল ইসলাম পানিতে নদী খননের কথা এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ‘খাল খননে যে পানি দেখা যাচ্ছে তা নদীর নয়, জোয়ারের পানি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা