kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

সিংজুড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র

১২টার আগে কেউ আসেন না

সাব্বিরুল ইসলাম সাবু, মানিকগঞ্জ   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১২টার আগে কেউ আসেন না

মানিকগঞ্জের ঘিওরের সিংজুড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকেও কর্মকর্তাদের সব কক্ষেই তালা ঝুলছিল (বাঁয়ে); কেন্দ্রের কার্নিশে বাসা বেঁধেছে মৌমাছি। ছবি : কালের কণ্ঠ

সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিত হওয়ার কথা। কিন্তু গতকাল বুধবার সকাল ৯টায় উপস্থিত হয়ে দেখা গেল, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সিংজুড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সদর দরজায় তখনো তালা। সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর দেখা মিলল না। স্থানীয় কয়েকজন জানাল, ১২টার আগে কেউ আসেন না। কেউ আসেন মাসে দু-এক দিন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, পিয়ন রান্টু মিয়ার বাড়ি কাছেই। আধাকিলোমিটার দূরে তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল তখনো তিনি প্রস্তুত হননি। এই প্রতিবেদকের পরিচয় পাওয়ার পর দ্রুত ফোনে কথা বললেন কর্মকর্তাদের সঙ্গে। কেন্দ্রে ফিরতে ফিরতে কথা হলো রান্টু মিয়ার সঙ্গে। সময়মতো অফিসে না যাওয়ার যুক্তি দিয়ে বললেন, ‘স্যারেরা দেরি করে আসে। আমি একা যেয়ে কী করব।’ বললেন, সাধারণত ১২টার দিকে স্যাররা আসেন। তবে রান্টু মিয়ার ফোন পেয়ে সাড়ে ১১টার দিকে আসেন স্বাস্থ্য বিভাগের দুজন এবং পরিবার কল্যাণ বিভাগের একজন কর্মকর্তা। তাঁরা হলেন স্বাস্থ্য বিভাগের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল কর্মকর্তা রুহিদাস তরফদার, ফার্মাসিস্ট স্বপন কুমার সরকার ও পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক নুরে আলম।

তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, প্রায় দেড় বছর ধরে মেডিক্যাল অফিসারবিহীন চলছে কেন্দ্রটি। ফলে মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টের ওপর ভরসা করে চলছে এখানকার চিকিৎসাসেবা।

মেডিক্যাল সহকারী রুহিদাস রোগীর রেজিস্টার খুলে দেখিয়ে জানান, প্রতিদিন গড়ে ২০-২৫ জন রোগী আসে এই কেন্দ্রে। তবে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রে অপেক্ষা করে একজন রোগীরও দেখা মেলেনি।

পরিবার কল্যাণ বিভাগের অবস্থা আরো করুণ। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সপ্তাহে দুই দিন কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (নারী) আলো সরকার গত এক মাসে মাত্র একবার কেন্দ্রে এসেছেন। নিয়ম অনুযায়ী, স্বাভাবিক প্রসব করানোর দায়িত্ব তাঁর। তিন বছর ধরে তিনি এই কেন্দ্রে থাকলেও কোনো প্রসব করাননি। অথচ ডেলিভারি কিটসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে কেন্দ্রে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপস্থিত পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (পুরুষ) নুরে আলম। কেন্দ্রে বসেই আলো সরকারের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, প্রতি মাসেই এক-দুটি প্রসব করানো হয়।

ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সোমেন চৌধুরী জানান, ওই কেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসারকে প্রেষণে ঘিওর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। সময়মতো উপস্থিত না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকায় এক সম্মেলনে থাকায় ঘিওর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা