kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়

শাস্তিতে দ্বিমুখী নীতি

নুরুল ইসলাম রুদ্র, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শাস্তিতে দ্বিমুখী নীতি

এক ছাত্রী সহপাঠীর বিরুদ্ধে উত্ত্যক্তের (ইভ টিজিং) অভিযোগ আনেন। ওই সহপাঠী একই দিন তিন ছাত্রের বিরুদ্ধে হয়রানির (র‌্যাগিং) অভিযোগ আনেন। প্রশাসন তড়িঘড়ি তিন ছাত্রকে সাময়িক বহিষ্কার করে। এদিকে উত্ত্যক্তের ঘটনায় দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তোলেন, ‘উত্ত্যক্তের ঘটনা ঢাকতেই কি হয়রানির অভিযোগ?’ এই ঘটনা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের।

শিক্ষার্থীরা জানান, গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিন ছাত্রীকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে থাকেন যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র মুস্তাকিম সাকিব। এ ঘটনা এক ছাত্রী বিভাগের বন্ধু ও পরবর্তী সময়ে জ্যেষ্ঠদের জানান। জ্যেষ্ঠরা বিভিন্নভাবে অভিযুক্তকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি উল্টো সহপাঠীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করতেই থাকেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিভাগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ছাত্র সিলেট শহরের পাঠানটুলার একটি মেসে মুস্তাকিমকে ডেকে নেন। সারা রাত তাঁকে আটকে রাখেন। বকাঝকা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হন মুস্তাকিম। হয়রানির শিকার এক ছাত্রীকে হুমকিও দেন। এ ঘটনায় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এক ছাত্রী বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা প্রভাষক নাফিজা আনজুমের কাছে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দেন।

নাফিজা আনজুম বলেন, ‘যৌন হয়রানির অভিযোগপত্র পেয়েছি। পরে তা বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধ সেলের নিকট পাঠিয়েছি।’

যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধ সেলের প্রধান নাজিয়া চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের কাছে দুটি অভিযোগপত্র এসেছে। মঙ্গলবার সভায় অভিযোগগুলো তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ তবে আরেকটি অভিযোগ কার বিরুদ্ধে, তা তিনি জানাননি।

এদিকে যৌন হয়রানির অভিযোগ যেদিন দেওয়া হয়, একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল পর্ষদের কাছে হয়রানির অভিযোগ করেন মুস্তাকিম। তাঁর মামা রাসায়নিক প্রকৌশল ও পলিমার বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জোবায়ের বিন মুকলেস। মামা জোর করিয়ে প্রক্টর দপ্তরে অভিযোগ দিতে বাধ্য করেন। এ নিয়ে একটি কল রেকর্ড এ প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে। সেখানে মুস্তাকিম তাঁর এক বন্ধুর কাছে স্বীকার করেন, কোনো ধরনের অভিযোগ করতে চাননি তিনি।

তবে মুস্তাকিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওই দিন প্রায় ২০ জন বড় ভাই আমাকে আটকে রেখেছিলেন। সবার নাম আমি না জানার কারণে অভিযোগপত্রে লিখতে পারিনি। যাঁরা আমাকে বেশি র‌্যাগ দিয়েছিলেন আমি তাঁদের তিনজনের নাম বলেছি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।’ এ বিষয়ে ড. মুহম্মদ জোবায়ের বিন মুকলেস বলেন, ‘আমি কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’

এদিকে একই দিনে দুটি অভিযোগ পড়লেও একটির প্রেক্ষিতে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত কমিটি গঠন ও পরে সন্ধ্যায় তিন ছাত্রকে সাময়িক বহিষ্কার করে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম, মো. শাহাদাত হোসেন (রাসায়নিক প্রকৌশল ও পলিমার বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক) ও মো. আহসানুল ইসলাম বিষয়টি তদন্ত করেন। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন, ২০১৬-১৭ বর্ষের সোহেল রানা ও ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের নাফি আনোয়ার সাদি ও নূর-ই-আলম সিদ্দিকি। তবে সোহেল রানা দাবি করেন, ‘র‌্যাগিংয়ের সময় তিনি ছিলেন না। তিনি ৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর মেসে ছিলেন।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম বলেন, ‘র‌্যাগিংয়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিনজনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আরো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যেহেতু তদন্ত চলছে, সুতরাং কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা