kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

গাড়ি ও চালক দু-ই সনদহীন

শাহাদাত তিমির, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গাড়ি ও চালক দু-ই সনদহীন

নিজস্ব পরিবহনের অপর্যাপ্ততার কারণে ভাড়া করা গাড়ির ওপর নির্ভর করে চলছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিবহন ব্যবস্থা। এই পরিবহন সামলাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বাজেটের ৮ শতাংশ ব্যয় করছে প্রশাসন। তার পরও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমছে না। পরিবহন নিয়ে বস্তা বস্তা অভিযোগ তাঁদের। ভাড়া গাড়ির ফিটনেসহীনতা, চালকদের লাইসেন্সহীনতা, অদক্ষতা, বাইরের যাত্রী তোলা, বারবার দুর্ঘটনা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ নানা অভিযোগ এই পরিবহনব্যবস্থার বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইবির পরিবহনব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া গাড়ি স্থানীয় ক্ষমতাসীন নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এই সমস্যার সুরাহা করতে পারছে না প্রশাসন। বিকল্প কোনো ব্যবস্থারও চেষ্টা নেই তাদের।

তথ্য মতে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার। প্রতিষ্ঠার চার দশকেও সিকি ভাগ শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা নিশ্চিত হয়নি। আটটি আবাসিক হলের আসনসংখ্যা মোট শিক্ষার্থীর মাত্র এক-পঞ্চমাংশ। ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের জন্যও নেই পর্যাপ্ত আবাসিক ব্যবস্থা। তাই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বৃহৎ অংশকে থাকতে হয় ক্যাম্পাস থেকে যথাক্রমে ২২ ও ২৪ কিলোমিটার দূরে কুষ্টিয়া বা ঝিনাইদহ শহরে। তাঁদের আনা-নেওয়া করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন অপ্রতুল থাকায় পাশের দুই জেলার পরিবহন মালিকদের দ্বারস্থ হতে হয়। বর্তমানে ঝিনাইদহের রাজ মোটরস এবং কুষ্টিয়ার লিজা মোটরসের সঙ্গে বার্ষিক চুক্তি রয়েছে ইবির।

এই পরিবহন খাতে ব্যয় হয় বাজেটের বড় একটি অংশ। ভাড়ায়চালিত কুষ্টিয়াগামী বড় বাসের জন্য ট্রিপপ্রতি এক হাজার ৭৯০ ও মিনিবাসের জন্য এক হাজার ৬৯০ টাকা দিতে হয়। ঝিনাইদহ রুটে বড় বাস ও মিনিবাস প্রতি ট্রিপে পায় যথাক্রমে এক হাজার ৮২০ ও এক হাজার ৬৫০ টাকা। আর শৈলকুপাগামী মিনিবাসকে দিতে হয় এক হাজার ৩৪০ টাকা করে। তা ছাড়া ঝিনাইদহ রুটে এক হাজার ৪৪০ টাকায় একটি বড় বাস চলাচল করে। হিসাব অনুযায়ী দিনে পরিবহন খাতে ব্যয় হয় এক লাখ ৬৭ হাজার ৪৪০ টাকা। পরিবহন খাতে ২০১৮ সালে গাড়ির ভাড়া বাবদ ব্যয় হয় চার কোটি ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮০ টাকা। তা ছাড়া নিজস্ব পরিবহন খাতে বছরে ব্যয় হয় ছয় কোটি ৮৪ লাখ ৯৮ হাজার ১২৮ টাকা। যার মধ্যে গাড়ি কেনা বাবদ খরচ তিন কোটি ৫১ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ টাকা। গত বছর পরিবহন খাতে ব্যয় ১১ কোটি ৩৭ লাখ পাঁচ হাজার টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহনের জন্য স্থায়ী চালক ২৬ জন। যাঁদের সবারই লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়ে পরবর্তী সময়ে ভারপ্রাপ্ত চালকের দায়িত্ব পালনকারীদের লাইসেন্স নেই ব্যক্তিগত নথিতে। তবে পরিবহন অফিস জানায়, তাঁদের লাইসেন্স দেখেই চালক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বাইরের পরিবহনের সঙ্গে চুক্তিনামায় উল্লেখ আছে চালকের লাইসেন্স ও টেক্সট টোকেন ফিটনেস জমা দেওয়ার কথা। তবে ভাড়ায়চালিত বাসগুলোর চালকদের লাইসেন্স বা দক্ষতামূলক সনদের কোনো তথ্য জমা দেওয়া হয়নি। ভাড়ায়চালিত বেশির ভাগ গাড়ির ইঞ্জিনের অবস্থা লক্কড়ঝক্কড়। ভাড়ায়চালিত ডাবল ডেকারগুলোসহ শানে খোদা (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-১৭৫৫), মিথুন (কুষ্টিয়া ব-০২-০০০৫), বিসমিল্লাহ (পাবনা জ-০৪০০৭), সানজানি (যশোর ব-৬১০), আলহাজ (কুষ্টিয়া ০২-০০০২), জাইফের (পাবনা জ-১১-০০৮০) ফটনেস নেই। বিএম, রাজধানী, রাজ মোটরস, অনুভব ও নাজ পরিবহনের কয়েকটি গাড়ির অবস্থাও ভালো না।

এ বিষয়ে পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, ‘ভাড়ায়চালিত গাড়ির চালকদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা মালিকদের এখন পর্যন্ত চার-পাঁচ দফা চিঠি দিয়েছি; কিন্তু তাদের কেউ গাড়ির টেক্সট টোকেন ফিটনেস বা চালকের লাইসেন্স দেয়নি।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব। আমরা চেষ্টা করছি পরিবহন খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে। চলতি বছরেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারলে অনেকটা এগিয়ে যাব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা