kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

রক্তদাতাকেই হত্যা!

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ছয় বছর আগে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন বগুড়ার শাজাহানপুরের চোপীনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য শাজাহান আলী। তখন রক্ত দিয়ে তাঁর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন আমরুল ইউনিয়নের ঝালোপাড়া গ্রামের আব্দুস সালাম (৩৫)। অথচ তুচ্ছ ঘটনার জেরে প্রকাশ্যে তাঁকেই ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শাজাহানের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বৃ-কুষ্টিয়া চার মাথা বাজারে ঘটনাটি ঘটে। রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সালামের মৃত্যু হয়।

জানা যায়, এইচএসসি পাসের পর উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ পড়ছিলেন সালাম। পাশাপাশি কৃষিকাজ করতেন। মাত্র দেড় মাস আগে আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বিয়ের জন্য গতকাল বুধবার পাত্রী দেখতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। অনেক দিন আগেই তাঁর মা-বাবা মারা গেছেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে সালামই সবার ছোট।

স্থানীয়রা জানায়, সালাম, শাজাহান, নয়ন ও তারেক প্রায়ই একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। তাঁরা বন্ধুর মতো ছিল। তবে তাদের অভিযোগ, শাজাহানের স্বভাব-চরিত্র ভালো নয়। তাঁর ছেলেও ভালো নয়। মাদক সেবন করেন। কিছুদিন আগে তিন কলেজছাত্রীকে আটকে রেখে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটান দুর্বৃত্তরা। তাঁদের মধ্যে শাজাহানের ছেলেও ছিলেন। 

প্রত্যক্ষদর্শী শহিদুল ইসলামের মতে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বৃ-কুষ্টিয়া চার মাথা বাজারে একই দোকানে পাশাপাশি বসে চা পান করছিলেন তিনি ও সালাম। হঠাৎ শাজাহান এসে সালামের শার্টের কলার ধরে ‘তুই কী হয়েছিস। তোকে আজ শেষ করে ফেলব’— এ কথা বলেই পর পর তিনবার তাঁর বাঁ পাঁজরে ছুরিকাঘাত করেন। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী এনামুল ফকির বলেন, ‘কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই শাজাহান রক্তমাখা ছুরি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।’

শাজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান,  এখনো মামলা হয়নি। তবে হত্যার ক্লু উদ্ধার হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা