kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

দুই বছর পর স্বজনদের ফিরে পেলেন ফজিলা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, রংপুর   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দুই বছর পর স্বজনদের ফিরে পেলেন ফজিলা

স্বজনদের সঙ্গে ফজিলা

প্রায় দুই বছর পর স্বজনদের ফিরে পেলেন ফজিলা বেগম। রংপুরের বদরগঞ্জের হাসিনানগরের গ্লোরী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার হেফাজতে থাকা ফজিলাকে গত মঙ্গলবার বিকেলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্বজন ও সংস্থা সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের মৌজা শাখাতী গ্রামের ফজলুল হকের মেয়ে ফজিলা। ১৯৯৮ সালে একই জেলার হাতিবান্ধার কিসামত ধওলাই গ্রামের আব্দুল আজিজের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তৃতীয় সন্তানের মা হওয়ার পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি। এ অবস্থায় কেটে যায় কয়েক বছর। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে তৃতীয় সন্তান সোহেল রানাকে (৪) কোলে নিয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ির উদ্দেশে বের হন ফজিলা। কিন্তু পথ ভুলে হারিয়ে যান তিনি। হারিয়ে ফেলেন কোলের সন্তানকেও।

অন্যদিকে ফজিলা ও তাঁর ছোট সন্তানের খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবার।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মারুফ কেইন জানান, ২০১৮ সালের আগস্ট মাসের শুরুর দিকে ফজিলাকে পেয়েছেন তাঁরা। বদরগঞ্জ থানা থেকে তাঁদের কাছে ফজিলাকে দেখভালের জন্য পাঠানো হয়। পুলিশ তাঁকে উপজেলার মুনশীরহাট এলাকায় পেয়েছিল। কিন্তু তিনি কিভাবে সেখানে এসেছেন, কোথায় ছিলেন তা তখন জানা যায়নি। তাঁদের সেবায় একপর্যায়ে মানসিক ভারসাম্য কিছুটা ফিরে পান ফজিলা। পরে তাঁর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কথা বলে পরিচয় জানার চেষ্টা করা হয়। তবে মেলে অস্পষ্ট ঠিকানা। এ ঠিকানার সূত্র ধরে সংস্থার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ফজিলার স্বজনদের সন্ধান মেলে। মঙ্গলবার বিকেলে বাবা ফজলুল হক ও বড় ছেলে ফরিদুল ইসলাম তাঁকে নিতে আসেন। তবে ফজিলার ছোট ছেলে সোহেল এখনো নিখোঁজ।

মাকে ফিরে পেয়ে সবচেয়ে খুশি ফরিদুল (২০)। তিনি বলেন, ‘হারিয়ে যাওয়ার পর অনেক জায়গায় মায়ের খোঁজ করেছি। অবশেষে সেই মায়ের মুখ দেখলাম। কিন্তু আমার ছোট ভাই এখনো নিখোঁজ। তার জন্য আমাদের কষ্টের সীমা নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা