kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

গ্রামের নাম ‘মানুষ মারা’

পরিবর্তনের দাবি এলাকাবাসীর

নীলফামারী প্রতিনিধি   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘মানুষ মারা’ গ্রামের নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘মানুষ মারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে ৮৫ বছরের পুরনো ওই বিদ্যালয়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মানুষ গড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। তাতে বিদ্যালয়ের নামের বিস্বাদ দূর হলেও সেই তেতোটা রয়ে গেছে গ্রামের নামে।

নীলফামারী সদরের পঞ্চপুকুর ইউনিয়নে গ্রামটির অবস্থান। শ্রুতিকটু ওই নামটি অনেক পুরনো। এমন নামের সঠিক ব্যাখ্যাও নেই গ্রামবাসীর কাছে। লোকমুখে প্রচলিত আছে, কোনো এক সময় গ্রামটিতে মারাত্মক কলেরার প্রকোপ দেখা দিয়েছিল। সেই কলেরায় মারা গিয়েছিল গ্রামের অনেক মানুষ। সেকালের মানুষের ধারণা ছিল, ওই গ্রামে যারা আসবে তারা মারা যাবে। কলেরাকে তখন ভাবা হতো অদৃশ্য শক্তি হিসেবে। সেই অদৃশ্য শক্তির নিবাস ধরা হয়েছিল গ্রামটিকে। সেখান থেকেই গ্রামটি ‘মানুষ মারা’ নামে চিহ্নিত হয়।

ওই গ্রামের কৃষক মোজাহারুল ইসলাম (৭৫) বলেন, ‘নামটি বলতে খারাপ লাগে। এলাকার বাইরে গিয়ে গ্রামের নাম বলতে সংকোচ হয়। নাম শুনে অনেকে আঁতকে ওঠে। বিভিন্ন প্রশ্ন করে। আমাদের গ্রামের নামটি পরিবর্তন করা হোক।’

একই গ্রামের বাসিন্দা প্রকৌশলী আবু সাইদ মোহাম্মদ নুরুল হুদা ছোটবেলায় লেখাপড়া করেছেন মানুষ মারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনিও নিজের গ্রাম ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম নিয়ে বিব্রত। তিনি বলেন, ‘গ্রাম আর বিদ্যালয়ের নাম নিয়ে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি। শ্রুতিকটু এই বিদ্যালয়ে পড়ে গ্রামের অনেকে বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের নামের পরিবর্তন হয়েছে। এখন আমাদের দাবি গ্রামের নাম পরিবর্তনের।’

জলঢাকা ডিগ্রি কলেজে পড়া গ্রামের আব্দুল কাদেরের মতো সবাই নিজেদের গ্রামের নাম নিয়ে বিব্রত।

জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘এই জেলায় যোগদানের পর প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ে জানতে চাইলে ওই বিদ্যালয়টির নামটি বিশেষভাবে চোখে পড়ে। যেখানে মানুষ গড়া হয়, সেই বিদ্যালয়টির নাম কেন মানুষ মারা হবে? এটি উচ্চপর্যায়ে আলোচনার পর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিশুদের মানবিক বিকাশে বাধা ছিল নামটি। এখন গ্রামের নামটিও পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা