kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

যশোরে টিকা সংকট

ঝুঁকির মুখে শিশু ও প্রসূতি মায়ের জীবন

যশোর অফিস   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যশোরে টিকা সংকট

টিকা দিতে না পেরে শিশু নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন অভিভাবকরা। ছবিটি গতকাল যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ইপিআই বিভাগের সামনে থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

যশোর জেলার সব টিকাদান কেন্দ্রে প্রসূতি ও শিশুর টিকার সংকট দেখা দিয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, সরবরাহ না থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে একদিকে সেবাগ্রহীতাদের জীবন সংকটের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বাঘারপাড়া উপজেলার কামারগন্না গ্রাম থেকে এক গৃহবধূ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) বিভাগে গতকাল বুধবার এসেছিলেন টিটি টিকা নিতে। টিকা না পেয়ে ফেরত যাওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘টিকা নেই। তাই দিতি পারলাম না। কিন্তু এদিকি এ টিকা সাত মাসের মধ্যি দিতি হয়। সময়মতন না দিলি ক্ষতি হতি পারে। টিকা দিয়ার ওখেন তে কইলো কয়েক দিন পর আসতি। এদিকি আমার সাত মাস তো প্রায় হবে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কামারগন্নাততে ভ্যানে কইরে খাজুরা, তারপর ইজি বাইকে কইরে হাসপাতাল। আসতি যাতি তো ২০০ টাকা খরচ হয়। আর আমার শরীলির এই অবস্থায় গাড়িতি আসা-যাওয়ায় ঝাঁকা লাগে। পেটে ব্যথা হয়।’

যশোর সদর উপজেলার মাহিদিয়া গ্রাম থেকে ৪৫ দিন বয়সী মেয়ে নুসরাতকে কোলে নিয়ে হাসপাতালের ইপিআই বিভাগে এসেছেন গৃহবধূ কাজল রেখা। তাঁর মেয়েকে আইভিপি টিকা দিতে। তিনিও নুসরাতের টিকা দিতে না পেরে ফিরে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘টিকা নেই। দুই-এক দিন পর আবার আসতে বলল। কোলের এই শিশু নিয়ে আবার আসতে হবে। ছোট্ট বাচ্চা নিয়ে শহরে আসার ঝামেলার সঙ্গে বাড়তি খরচ হবে। আবার টাইমমতো টিকা দিতেও হবে। অল্প আয়ের মানুষের জন্য অতিরিক্ত খরচ করা খুব কষ্টের।’

বর্তমানে যশোর ২৫০ জেনারেল হাসপাতালের ইপিআই বিভাগে টিকা সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এক মাসের বেশি আইভিপি এবং প্রায় দুই সপ্তাহ টিটি ও বিসিজি টিকা নেই। টিকা দিতে না পেরে গড়ে প্রতিদিন ফেরত যাচ্ছে শতাধিক প্রসূতি ও শিশু। সরকারিভাবে বিনা মূল্যে এসব টিকা সরবরাহ করা হয়ে থাকে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইপিআই সদরদপ্তর থেকে সরবরাহ না থাকার কারণে এ সংকট বলে জানা গেছে।

যশোর হাসপাতালের ইপিআই বিভাগের ভারপ্রাপ্ত শারমিন আফরোজ ময়না গতকাল জানান, ১১ জানুয়ারি থেকে আইভিপি টিকা ফুরিয়ে গেছে। এই টিকা শিশুদের পোলিও থেকে রক্ষা করতে দেওয়া হয়। শিশুর ৪৫ দিনে এক ডোজ এবং সাড়ে তিন মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। প্রতিদিন গড়ে ৩০টি শিশু এই টিকা দিতে না পেরে ফেরত যাচ্ছে। তিনি জানান, টিটি টিকা নেই ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে। এই টিকা অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের এবং কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালে দেওয়া হয়। পাশাপাশি এই টিকা সবার জন্য প্রয়োজনীয়। টিটেনাস থেকে রক্ষা করতে এই টিকা। গড়ে প্রতিদিন ২৫-৩০ জন রোগী ফেরত যাচ্ছে এই টিকা না থাকার কারণে।

তিনি আরো জানান, বিসিজি টিকা নেই ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে। যক্ষ্মা থেকে রক্ষার জন্য শিশু জন্মের ৪৫ দিনের ভেতর দেওয়া হয় এই টিকা। গড়ে ১৫-২০ জন প্রতিদিন ফেরত যাচ্ছে টিকা দিতে না পেরে।

এ ব্যাপারে যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, ‘এ টিকাগুলোর সরবরাহ নেই। টিকার চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। কবে নাগাদ পাওয়া যাবে তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা