kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

কামারখন্দে প্রকল্পের কাজে নয়ছয়

সভাপতিরা জানেন না কিভাবে কাজ হচ্ছে
তদারকির দায়িত্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় গুচ্ছগ্রাম আর দুর্যোগ সহনীয় ঘর তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের সভাপতিরা জানেন না কিভাবে কাজ হচ্ছে। অন্যদিকে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কাজের তদারকি করছেন। ফলে কাজে কোনো গতি নেই। বরাদ্দের টাকারও নেই হিসাব-নিকাশ।

২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় ১৯টি দুর্যোগ সহনীয় ঘর ও দুটি গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প অনুমোদন দেয় কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পগুলোতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কাজের তদারকি করা হবে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পের বরাদ্দের টাকার চেক স্বাক্ষর করে উপজেলায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব নিজ নিজ প্রকল্পের সভাপতির। সভাপতি হয়েও কাজ করার সুযোগ না থাকায় নতুন কোনো প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে আর রাজি নয় জনপ্রতিনিধিরা। তাই মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নতুন প্রকল্পের ২৯টি ঘরের কাজ এখনো শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

আরো অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পে সরবরাহ করা পণ্যের দামও এখনো পরিশোধ করেনি কর্মকর্তারা। এ নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন জনপ্রতিনিধিরা। কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের ১, ২, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর উম্মে নূর পেয়ারা বলেন, ‘প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা চেক স্বাক্ষর করে উপজেলা পরিষদেই জমা দিতে হয়। কাজের ব্যাপারে আমাদের অবহিত করা হয় না। তাই কোথায় কী কাজ করা হচ্ছে—তাও জানা সম্ভব হয় না।’

৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে আমাকে বলা হয়, আপনে কি এই কাজের জন্য বিশেষজ্ঞ? তাই দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও তা পালন করতে পারি না।’ ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের কোনো মতামত নেওয়া হয় না। তাই অহেতুক কাজের দায়িত্ব নেব কেন?’

স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশেই প্রকল্পের বরাদ্দের চেক স্বাক্ষর করে জনপ্রতিনিধিরা জমা দিয়েছেন। পরে নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ মতো তা খরচ করা হয়েছে।’

এদিকে পণ্য সরবরাহকারী জানায়, ছয় মাস ধরে পাওনা আদায়ে দেনদরবার চললেও এখনো বকেয়া পরিশোধ হয়নি।

এদিকে গত ৬ ফেব্রুয়ারি চৌবাড়ি গুচ্ছগ্রাম-২ প্রকল্পের উদ্বোধন ও চাবি হস্তান্তর করলেও তা এখনো বসবাসের উপযোগী নয় বলে জানান স্থানীয়রা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘরগুলো বালুর ওপর কোনোমতে দাঁড় করিয়ে রাখা। ঘরের ভেতর খাট বা অন্য কোনো আসবাব রাখার মতো অবস্থা নেই। ঘরগুলো অর্ধেক তৈরি করেই হস্তান্তর করা হয়েছে।

চৌবাড়ি গুচ্ছগ্রাম-২ প্রকল্পের সভাপতি ও রায় দৌলতপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান লুত্ফর রহমান জানান, তিনি এই গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের নামমাত্র সভাপতি। কাজের বিষয়ে তাঁর কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। তবে বরাদ্দ টাকার চেক স্বাক্ষর করে উপজেলায় জমা দিয়েছেন।

কামারখন্দ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আয়েশা সিদ্দীকা জানান, তিনি ছুটিতে থাকাকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেই প্রকল্পের কাজ করেছেন। তাই এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, বাসিন্দা এলেই গুচ্ছগ্রাম বসবাসের উপযোগী হয়ে উঠবে। আর অন্যসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদার হতেও তাঁর কোনো আপত্তি নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা