kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাহাড় কেটে শিক্ষকদের ভবন তৈরি করা হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন শিক্ষক ক্লাব কাম গেস্টহাউসের নির্মাণকাজের জন্য পাহাড় কাটছে ভবনটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র নেয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আগেও একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয়ে পাহাড় কাটার অভিযোগ রয়েছে। সেবার পাহাড় কাটার দায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপালেও এবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাহাড় কাটা হচ্ছে না বলে দাবি করেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দক্ষিণ পাশে নির্মিত শিক্ষক ক্লাব কাম গেস্টহাউসের উত্তর পাশের পাহাড়ের প্রায় অর্ধেক মেশিনের সাহায্যে কেটে ফেলা হয়েছে। পাহাড় কাটা মাটিগুলো ট্রাকে করে নির্মিত ভবনের নিচু জায়গায় দেওয়া হচ্ছে। বেশির ভাগ অংশ কেটে ফেলায় যেকোনো সময় পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

পাহাড় কাটার এমন দৃশ্য দেখে এই প্রতিবেদকের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী। তাঁরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বেখেয়ালি মনোভাব ও উদাসীনতার কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই পাহাড়গুলো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য। এসব রক্ষা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। আর নয়তো আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা সে দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নেব।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের উত্তর পাশের পাহাড়ের এক পাশের প্রায় অর্ধেক অংশ কেটে রাস্তা ও মাঠ নির্মাণের অভিযোগ ছিল। আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের পশ্চিম পাশের পাহাড়ের একটি অংশ মেশিনের সাহায্যে কেটে ফেলা হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইনের ২০১০-এর ৬-এর ‘খ’ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো পাহাড় বা টিলা কর্তন বা মোচন করা যাইবে না, তবে অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহণক্রমে পাহাড় কর্তন করা যাইবে।’

যোগাযোগ করা হলে পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লার পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা মাত্র জেনেছি। আমাদের দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্মাণাধীন ভবনের ঠিকাদার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ভবনের মূল অংশে মাটির প্রয়োজন হওয়ায় নিচের অংশ কাটা হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘শিক্ষক ক্লাব ও গেস্টহাউস ভবনের বেইসমেন্ট কাটছে। পাহাড় কাটার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে প্রকৌশলীকে পাঠিয়েছি। তাঁরা জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসের কোথাও পাহাড় কাটা হয়নি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা