kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

পীরগাছায় বোরো চারার সংকট

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পীরগাছায় বোরো চারার সংকট

রংপুরের পীরগাছায় বোরো চাষের ভরা মৌসুমে চারার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকরা চড়া দামেও চারা পাচ্ছেন না। শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে বেশির ভাগ বীজতলা মরে গেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে পীরগাছা উপজেলায় সাড়ে ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য ৮০০ হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হয়। কিন্তু শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় অনেক বীজতলার চারা নষ্ট হয়ে যায়।

সরেজমিন কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার হাটে চারা কম উঠছে। ক্রেতা বেশি হওয়ায় বিক্রেতারা চারার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। গত বছর বোরো ২৯ জাতের চারা দুই টাকা আঁটি বেচা হয়েছে। এ বছর সেই চারা ছয় থেকে আট টাকা আঁটি বেচা হচ্ছে। তবুও কাঙ্ক্ষিত চারা মিলছে না। ফলে কৃষকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।

কৃষকরা জানান, হাইব্রিড এবং ব্রি ২৮ ও ব্রি ২৯ জাতের ধানের বীজতলায় চারা বড় করতে ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগে। এরপর বীজতলা থেকে চারা তুলে জমিতে রোপণ করতে হয়। কিন্তু যে বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে, সেগুলো নতুন করে চারা তৈরি করতে আবাদ দেরি হয়ে যাবে। ফলে ধানের ফলন কম হবে। এতে করে কৃষকরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

কান্দিরহাটে বোরো চারা কিনতে আসা আফছার আলী বলেন, ‘২২ শতাংশ জমিতে রোপণ করতে এক হাজার ৪০০ টাকা দিয়ে চারা কিনতে হলো। চারা না পেলে তৈরি জমি শুকিয়ে যাবে।’

পাওটানা হাটে চারা কিনতে আসা মাঈদুল ইসলাম বলেন, ‘শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় বীজতলার চারায় পচন ধরে নষ্ট হয়েছে। এখন ভালো মানের চারা পাওয়া যাচ্ছে না। বাজারে যে চারা পাওয়া যাচ্ছে মান ভালো না হলেও দাম বেশি। তাই বোরো আবাদ নিয়ে চিন্তায় আছি।’

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা বোরো রোপণের জন্য জমি তৈরি করছেন। কিন্তু চারা সংকটে তারা আবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। অনেক কৃষক চারার অভাবে বোরো রোপণ করতে পারছেন না।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা লোকমান আলম বলেন, ‘অনেক কৃষকের বীজতলার জন্য জমি নেই। তাই তাঁরা প্রতিবছর অন্যের চারা কিনেই রোপণ করেন। এ সময় বোরো মৌসুমে হাট-বাজারে চারার চাহিদা বেড়ে যায়। এ জন্য সাময়িক সংকট দেখা দিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত চারা সংকট থাকবে না।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমুর রহমান বলেন, ‘বোরো রোপণের এখনো যথেষ্ট সময় রয়েছে। তা ছাড়া এরই মধ্যে বেশির ভাগ জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে।’

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা