kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

গৃহহীনের ঘর ধনাঢ্যের ভিটায়

নিয়াজ মোরশেদ, আক্কেলপুর (জয়পুরহাট)   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গৃহহীনের ঘর ধনাঢ্যের ভিটায়

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার তালোড়া বাইগুনি গ্রামের গোপাল চন্দ্র মহন্তের (৬৫) সহায়-সম্পদ বলতে কিছুই নেই। গ্রামের ভূপেন বাসাক নামের এক ব্যক্তি তাঁকে থাকার জন্য আশ্রয় দিয়েছেন। তিনি যে ঘরটিতে বসবাস করছেন, সেটিও জীর্ণশীর্ণ। প্রায় এক যুগ ধরে গোপাল চন্দ্র মহন্ত তাঁর পরিবার নিয়ে সেখানে বাসবাস করছেন। তিনি ভূমিহীন হলেও তাঁর কপালে গৃহহীনদের জন্য নগদ টাকায় দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ প্রকল্পের ঘর জোটেনি। তাঁরই প্রতিবেশী ভালো অবস্থাসম্পন্ন ওবাইদুল ইসলামের কপালে জুটেছে সেই ঘর।

বর্তমানে ভূমিহীন গোপাল চন্দ্র মহন্তের ঘরের ঠিক ১০ হাত দূরেই সরকারি টাকায় ওবাইদুলের বাড়িটির নির্মাণকাজ চলছে।

গোপাল চন্দ্র মহন্ত বলেন, ‘গ্রামে আমার ১ শতাংশ জায়গা ছিল। ১১ বছর আগে জায়গাটি বিক্রি করে আমার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। জায়গা না থাকায় গ্রামের ভূপেন বসাক তাঁর জায়গায় আমাদের থাকতে দিয়েছেন। ছোট্ট ঘরে এক ছেলেকে নিয়ে আমরা বসবাস করছি। বর্ষা হলে পানি পড়ে। আমি ভূমিহীন মানুষ। সরকারিভাবে ঘর দেওয়ার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে বহুবার ধরনা দিয়েছি। কিন্তু আমার নামে ঘর বরাদ্দ হয়নি। আমার চেয়ে অনেক ভালো অবস্থা ওবাইদুল ইসলামের। সরকার তাঁকে ঘর দিয়েছে। এতে আমার কোনো আফসোস নেই।’

প্রতিবেশী বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘ওবাইদুলের নিজের জমি আছে। তাঁর বাপের তিনটি বাড়িও আছে। কিন্তু যাঁদের কিছুই নেই, তাঁরা সরকারি বাড়ি পেলেন না।’

সুবিধাভোগী ওবাইদুল ইসলামের দাবি, তাঁর ৪ শতাংশ জায়গা ছাড়া আর কোনো সম্পদ নেই। বাবার কিছু জমি আছে; কিন্তু তাঁর আলাদা সংসার। চেয়ারম্যান সব জেনেই ঘর দিয়েছেন।

উদয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘প্রকল্পের শর্ত হলো নিজস্ব অন্তত ৪ শতাংশ জায়গা থাকতে হবে। কিন্তু গোপাল চন্দ্রের কোনো জায়গা-জমি নেই। এ কারণে তাঁর নামে ঘর বরাদ্দ হয়নি।’

কালাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘২০১৯-২০ অর্থবছরে এ উপজেলায় ৩২টি দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রকল্পের জন্য তালিকা চাওয়া হয়েছিল। পরে আমরা ইউনিয়ন পরিষদের প্রাপ্ত তালিকা যাচাই-বাছাই করে ঘর বরাদ্দ দিয়েছি। সুবিধাভোগী ওবাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তবে ওই অভিযোগের এতটা ভিত্তি আছে বলে মনে করি না। কারণ ইউএনও স্যার নিজে গিয়ে পরিদর্শন করে ওবাদুল ইসলামের ঘর বরাদ্দের জন্য নোট দিয়েছেন। প্রতি ঘর নির্মাণে দুই লাখ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।’

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোবারক হোসেন বলেন, ‘বরাদ্দে অনিয়ম হয়নি। নিবিড়ভাবে তালিকা যাচাইয়ের পর সুবিধাভোগীদের নামে বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা