kalerkantho

রবিবার  । ১৫ চৈত্র ১৪২৬। ২৯ মার্চ ২০২০। ৩ শাবান ১৪৪১

যশোর সীমান্ত দিয়ে সোনা ও হুন্ডি পাচার চলছেই

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে কেউ কেউ আটক হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রকৃত চোরাকারবারিরা

জামাল হোসেন, বেনাপোল (যশোর)   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যশোরের বেনাপোল ও শার্শা সীমান্ত দিয়ে সোনা ও হুন্ডি পাচার চলছেই। গত দুই বছরে ভারতে পাচারের সময় বেনাপোল ও শার্শা সীমান্ত এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ সোনার বার, দেশি-বিদেশি অর্থ জব্দ করেছে সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে শক্তিশালী চক্র অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, পরিবহন কর্মচারী, চেকপোস্টের বৈধ-অবৈধ মানিচেঞ্জার, সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারী ও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের মাধ্যমে সীমান্তপথে সোনা ও হুন্ডি পাচার চলছে। এর মধ্যে কেউ কেউ আটক হলেও প্রকৃত চোরাকারবারিরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে।

বেনাপোল ও শার্শা এলাকার সঙ্গে ভারতের ৭০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে গোগা, কায়বা, পুটখালী, দৌলতপুর, সাদিপুর, গাতিপাড়া, রঘুনাথপুর, ঘীবা ও শিকারপুর উল্লেখযোগ্য। যোগাযোগব্যবস্থা সহজ ও কলকাতার দূরত্ব কম হওয়ায় সোনা চোরাকারবারিরা এ সীমান্তকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে।

জানা গেছে, সোনা পাচারকারীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। যে কারণে বেনাপোল ও শার্শা সীমান্তপথে চোরাচালান বন্ধ হচ্ছে না। বিশেষ করে পাসপোর্টধারী যাত্রীরা ভারতে যাওয়ার সময় হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ নিয়ে যায়। তা ছাড়া চোরাকারবারিরা হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন করে থাকে। বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট এলাকায় নামে-বেনামে শতাধিক সাইনবোর্ডসর্বস্ব ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ব্যবসার আড়ালে সোনা পাচারের পাশাপাশি হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

সূত্র মতে, গত দুই বছরে বেনাপোল ও শার্শা সীমান্ত থেকে ১২৫ কেজি সোনা, ২০ কোটি ২৫ লাখ বাংলাদেশি টাকা, আট লাখ মার্কিন ডলার, আট লাখ ভারতীয় রুপি ও ৭০ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড জব্দ করেছে বিজিবি, পুলিশ ও শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। এ সময় তারা অভিযান চালিয়ে ১৩৬ জন সোনা ব্যবসায়ী ও হুন্ডি পাচারকারীকে আটক করে। তবে যারা আটক হয়, তারা প্রকৃত অপরাধী তথা এসবের মালিক নয়। টাকার বিনিময়ে এসব সোনা ও হুন্ডির টাকা বহন করে থাকে তারা। এই সুযোগে আসল ব্যবসায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সেলিম রেজা বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ায় সোনা ও হুন্ডি পাচারকারীরা বেনাপোল ও শার্শা সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে থাকে। এ ক্ষেত্রে বিজিবি সতর্ক রয়েছে ও গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধির পাশাপাশি আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে।

শার্শার নাভারণ সার্কেলের এএসপি জুয়েল ইমরান বলেন, বেনাপোল পোর্ট ও শার্শা থানায় গত দুই বছরে সোনা ও অর্থপাচার আইনে ১৩৬ জনকে আসামি করে ১১২টি মামলা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা