kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

গেট পাসের টাকা আত্মসাৎ

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী    

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গেট পাসের টাকা আত্মসাৎ

গেট পাসের নামে স্লিপের মাধ্যমে দেওয়া ফেরতযোগ্য ১০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে। ফলে জামানতের টাকা ফেরত পাচ্ছে না রোগীর স্বজনরা। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে রোগীর স্বজনদের মাঝে। বিশেষ করে, গরিব রোগীদের চিকিত্সা করাতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন অভিভাবকরা।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে দুজন করে স্বজন (দর্শনার্থী) প্রবেশ করতে পারবে। এর জন্য ১০০ টাকা করে জমা দিয়ে গেট পাস নিতে হবে। পরে রোগীর ছাড়পত্র দেখিয়ে সেই টাকা ফেরত নেওয়া যাবে। কিন্তু এই টাকা ফেরত দিচ্ছেন না টিকিট কাউন্টারের কর্মচারীরা।

গতকাল রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের আন্ত বিভাগের ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আনসার সদস্যরা ১০০ টাকার জামানত স্লিপ ছাড়া (গেট পাস) রোগীর সঙ্গে দেখা করতে তাদের স্বজনদের প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। এই স্লিপ রোগীকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করার সময় বাড়তি ১০০ টাকা করে জমা দিয়ে (ফেরতযোগ্য জামানত) সংগ্রহ করতে হচ্ছে অভিভাবকদের। এরপর রোগীর সঙ্গে তার দুজন করে অভিভাবককে যেতে দেওয়া হচ্ছে হাসপাতালের ভেতরে। 

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক রোগীর স্বজন আমেনা বেগম অভিযোগ করে জানান, তাঁর বাড়ি নগরীর আলুপট্টি এলাকায়। তিনি ৩০০ টাকা দিয়ে তিনটি গেট পাস সংগ্রহ করেন, যেন প্রতিটি গেট পাসে দুজন করে যেতে পারেন। কিন্তু হাসপাতালের ভেতরে গেলে সেই স্লিপ জমা নিয়েছেন আনসার সদস্যরা। এরপর তিনি হাসপাতাল থেকে ওষুধ কেনার জন্য বের হয়ে আর তাঁকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছিল না স্লিপ নেই বলে। এমনকি আগের জমা দেওয়া স্লিপের টাকাও ফেরত দেওয়া হচ্ছিল না। এ ঘটনায় তাত্ক্ষণিক আমেনা বেগম ঘটনাস্থলে চেঁচামেচি শুরু করে দেন।

কুদ্দুস আলী নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তিনি জামানত হিসাবে ১০০ টাকা দিয়ে একটি গেট পাস সংগ্রহ করেন। কিন্তু ফটকের কাছে যেতেই দুজনের বেশি তিনজন যেতে পারবে না বলে আনসার সদস্যরা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এর পর থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকেন কুদ্দুস। কিন্তু রোগী নিয়ে যাওয়ার সময় গেট পাস নিয়ে আর ফেরত দেননি আনসার সদস্যরা। ফলে অন্য স্বজনরাও আর বের হয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে পারছিল না। পরে নতুন করে স্লিপ নিয়ে আবার ভেতরে যেতে পারে তারা। অথচ তাদের রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। কিন্তু রোগীর পাশে থেকে সেবা করার সুযোগ পাওয়া তো দূরের কথা, গেট পাসের ঝামেলা নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করতে হয়েছে তাদের।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, এভাবে প্রতিদিন শতাধিক রোগীর স্বজনদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন আনসার সদস্যরা। স্বজনদের জমা দেওয়া জামানতের স্লিপ প্রতারণা করে নিয়ে সেই টাকা তুলে নিচ্ছেন আনসার সদস্যরা।

রামেক হাসপাতালের আনসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘হাসপাতালে নতুন নিয়ম কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় চালু হয়েছে। তবে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে কেউ যদি গেট পাসের স্লিপ নিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে থাকে, তাহলে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা রোগীর ভালোর জন্য এমন নিয়ম করেছি, যাতে অতিরিক্ত মানুষ হাসপাতালে ভিড় করতে না পারে। আবার বহিরাগত কেউ ভেতরে গিয়ে ঝামেলা তৈরি করতে না পারে। তবে ফেরতযোগ্য জামানতের টাকা নিয়ে কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা