kalerkantho

বুধবার  । ১৮ চৈত্র ১৪২৬। ১ এপ্রিল ২০২০। ৬ শাবান ১৪৪১

সেই আজিজের দম্ভোক্তি

‘গাঙের পানি ফুরাইলেও আমার টেহা ফুরাইত না’

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘গাঙের পানি ফুরাইলেও আমার টেহা ফুরাইত না’

আব্দুল আজিজ মিয়া

‘গাঙের পানি ফুরাইলেও আজিজের টেহা ফুরাইত না।’ এই দম্ভোক্তি আব্দুল আজিজ মিয়া নামের এক প্রতারকের। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার গাজিরচর ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের এই ব্যক্তি একসময় এলাকায় ঘুরে ঘুরে বেলুন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরে বিভিন্ন গ্রামের গেরস্থের বাড়ি থেকে দুধ কিনে বাজারে এনে বিক্রি করতেন। এলাকাবাসী সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

প্রায় পাঁচ বছর ধরে টয়লেটের নোংরা পরিবেশে পানিতে কেমিক্যাল মিশিয়ে ভেজাল দুধ তৈরি করে কোটিপতি বনে যান তিনি। ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইউনিয়ন পরিষদে সদস্য পদে নির্বাচন করারও স্বপ্ন দেখছেন। এলাকায় নেতাদের ছবির সঙ্গে নিজের ছবি দিয়ে সাঁটিয়েছেন পোস্টার, ব্যানার। এমনকি বিভিন্ন কর্মসূচিতে গরু জবাই করে খাইয়েছেন বলেও খবর রয়েছে।

অবশ্য তাঁর নেতা হওয়ার স্বপ্ন আপাতত দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আজিজের ছেলে রবি মিয়া ও সহযোগী তামজিদ মিয়া ধরা পড়েন। কথিত দুধের কারখানাও সিলগালা করে প্রশাসন। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বাজিতপুরের নির্বাহী কর্মকর্তা দীপ্তিময়ী জামান আটক দুজনকে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। তা ছাড়া ওসিকে ‘পলাতক’ আজিজের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করারও নির্দেশ দেন তিনি। কিন্তু গত পাঁচ দিনেও আজিজের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

গ্রামবাসী জানায়, গত কয়েক বছরে আজিজ বিপুল পরিমাণ টাকার মালিক হয়েছেন। এ টাকায় তিনি বাড়িতে দোতলা ভবন করার পাশাপাশি ৪০ শতাংশ জমি কিনেছেন। আজিজ প্রায়ই দম্ভ করে বলেন, ‘গাঙের পানি ফুরাইয়া গেলেও আমি আজিজের টেহা ফুরাইত না। ইলেকশনো চেয়ারম্যান কয় টেহা খরচ করব! আমি মেম্বারিত খাড়ইয়া হেত্তে বেশি টেহা খরচ করুম।’

তবে প্রতারক আজিজ নিজে দুধ জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করলেও ‘ছেলেরা এসব করেছে’ বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতারণাও করিনি, এত টাকাও কামাইনি।’ সব ধরনের অবৈধ কাজকারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এবং দম্ভোক্তির বিষয়ও অস্বীকার করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ্তিময়ী জামান জানান, ওসিকে তিনি যেসব ধারায় মামলা করতে বলেছিলেন, সেসব ধারায় মামলা আমলযোগ্য হয় না। তা ছাড়া আদালতের অনুমতি ছাড়া আসামি গ্রেপ্তারও করা যায় না। তবে তাঁকে গ্রেপ্তারে প্রয়োজনে বিশেষ ক্ষমতা আইনের দ্বারস্থ হবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা