kalerkantho

 ৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । সোমবার । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ধর্ষিতা দুই কিশোরী মা হওয়ায় নানামুখী চাপ

দিনাজপুরে সন্তানের পিতৃপরিচয়ের জন্য আইনি লড়াই, শঙ্কা

মাহাবুর রহমান, বিরামপুর (দিনাজপুর)   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ধর্ষিতা দুই কিশোরী মা হওয়ায় নানামুখী চাপ

দিনাজপুরে ধর্ষণের ঘটনায় দুই কিশোরী মা হওয়ায় তাদের পরিবার নানামুখী সামাজিক চাপে রয়েছে। সন্তানের পিতৃপরিচয় পাওয়ার জন্য আইনি লড়াই চললেও তাতে গতি নেই। ভুক্তভোগী দুই পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় আইনি লড়াইয়ের পদে পদে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। দুটি ঘটনায় এরই মধ্যে একজন ধর্ষক জামিনে বেরিয়ে এসে ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছেন। এসব কারণে যথাযথ বিচার পাওয়া নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার দুপুরে কথা হয়, জেলার নবাবগঞ্জের ভাদুরিয়া ইউনিয়নে ১৩ বছরের কিশোরীর সঙ্গে। জীর্ণ কুটিরে ছোট শিশুকে কোলে নিয়ে কাঁদছিল সে। অসহায় ছায়া বলে, দুই বছর আগে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় প্রতিবেশী সাইদুলের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫) তাকে ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন তিনি। অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে প্রায় দেড় মাস পর দাদির কাছে বিষয়টি জানায় ছায়া। শেষ পর্যন্ত গত বছরে ২০ জুন পুত্রসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। সন্তান হওয়ার পর সমাজের মানুষ তাদের পরিবারকে এড়িয়ে চলছে। এখন ছায়ার লেখাপড়াও বন্ধ। সন্তানকে নিয়েই দিন পার করছে সে।

মেয়েটির বাবা বলেন, তাঁর এক শতাংশ জমিও নেই। মাঠে কাজ করে কোনোমতে সংসার চলে। তাঁর মেয়ের এমন ঘটনার পর গ্রাম্য মাতবররা বিষয়টি টাকার বিনিময়ে মীমাংসার প্রস্তাব দেন। কিন্তু তিনি তাঁদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে গত বছরের ৭ জানুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। মামলা করার বেশ কিছুদিন পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে ধর্ষক রবিউল। ৯ মাস কারাগারে থাকার পর এখন জামিনে বেরিয়ে এসে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। মেয়ের এমন ক্ষতির জন্য রবিউলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য গফ্ফার হোসেন বলেন, ‘সংসারের অসচ্ছলতার কারণে অসহায় মেয়েটি প্রকৃত বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’ এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য রবিউলের শাস্তি কামনা করছেন তিনি।

নবাবগঞ্জ থানার ওসি অশোক কুমার চৌহান বলেন, ‘মামলার হওয়ার তিন মাসের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এটি এখন আদালতের বিষয়।’

এদিকে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে একই উপজেলার অন্য এলাকার ১৪ বছর বয়সী আরেক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আট মাস ধরে ধর্ষণ করেন পাশের গ্রামের খ্রিস্টান যুবক মনন্ত হাসদা (২৩)। এতে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে মেয়েটি। পরে ওই যুবককে অভিযুক্ত করে মেয়েটির মা গত বছরের ১১ আগস্ট বিরামপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই রাতেই মনন্ত হাসদাকে আটক করে।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার দুপুরে মেয়েটির মায়ের সঙ্গে কথা হয়। তার মা জানান, ঘটনা জানার পর বিয়ের দাবিতে মনন্ত হাসদার বাড়িতে যায় মেয়ে। কিন্তু পরিবারের লোকজন তাকে লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দেয়। তিনি আরো জানান, ধর্ষকের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করে দেওয়ার জন্য অনেক চাপ এসেছে। এখন আইনি বিষয়টিও ধীরগতিতে চলছে। এ অবস্থায় প্রত্যাশিত বিচার পাওয়ার নিয়ে শঙ্কায় আছেন তিনি।

বর্তমানে মেয়েটি স্থানীয় মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। তার কোলে এখন আড়াই মাসের শিশুকন্যা। বিধবা মা গ্রামের মানুষের অনেক অপমান সহ্য করেও মেয়ে-নাতনিকে নিয়ে কোনোমতে টিকে আছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিরামপুর থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘এ ঘটনায় মনন্ত হাসদাকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনটিও আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন বিষয়টি আদালত দেখবেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা