kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

সড়কের এক পাশ প্রশস্ত

ধামরাইয়ে সওজ কর্তার ভবন রক্ষার অভিযোগ

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সড়কের এক পাশ প্রশস্ত

সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) গোলড়া-সাটুরিয়া-বালিয়াটি জমিদারবাড়ি পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্ত ও পুন পাকাকরণ কাজ চলছে। রাস্তাটির ১০ কিলোমিটার অংশে দুই পাশে বর্ধিত না করে এক পাশে বর্ধিত করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সওজের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার তিনতলা ভবনকে অক্ষত রাখার জন্য পশ্চিমাংশ বর্ধিত করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে জানা গেছে, গোলড়া-সাটুরিয়া রাস্তাটির সাটুরিয়া বাজার এলাকায় (ধামরাইয়ের নান্দেশ্বরী মৌজায়) রাস্তার দুই পাশে সওজের জমি দখল করে অবৈধভাবে পাকা-আধাপাকা বাণিজ্যিক ও আবাসিক স্থাপনা নির্মাণ করেছে মোন্তাজ উদ্দিন, পিয়ার আলী, আমেনা বেগম, আহম্মদ আলী, আবু হানিফ, অনিল সাহা, আরিফ খান স্বপন, জিকরুল হাসান, কামরুল হাসান, ইমরুল হাসানসহ প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি। এর মধ্যে রাস্তাটি পশ্চিম পাশে প্রশস্তকরণ করা হলেও পূর্ব পাশে তিল পরিমাণ প্রশস্ত করা হয়নি। পূর্ব পাশে রয়েছে কয়েকটি বহুতল ভবন। এর একটি তিনতলা ভবনের মালিক প্রকৌশলী জিকরুল হাসান, তাঁর ভাই কামরুল হাসান ও ইমরুল হাসান। জিকরুল হাসান সওজ বিভাগের ঢাকা-টাঙ্গাইল চার লেন প্রকল্পের অতিরিক্ত পরিচালকের দায়িত্বে আছেন। ওই ভবনটি রক্ষার জন্যই নাকি পূর্ব পাশে সওজের কোনো আঁচড় পড়েনি বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, উভয় পাশে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হলে সড়কটির মোড়ে যানবাহনের কোনো যানজট হবে না। এ ক্ষেত্রে অবৈধ দখলদারদের মধ্যে আমেনা বেগম, মোন্তাজ উদ্দিন ও আরিফ খান স্বপন অভিযোগ করে বলেন, ‘জিকরুল হাসান সওজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হওয়ায় তাঁর তিনতলা ভবনটি রক্ষা করার জন্য কর্মকর্তারা শুধু পশ্চিমাংশে রাস্তা প্রশস্ত করে পাকা করছেন।’ তাঁদের দাবি, রাস্তার দুই পাশ থেকে বর্ধিতকরণ বা প্রশস্তকরণ করা হলে সাটুরিয়া স্কুলের দক্ষিণ পাশের মোড়ে যানবাহন চলাচলে সুবিধা হবে। বাসচালক নবী হোসেন, চান মিয়া ও হায়েত আলী জানান, সাটুরিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণের মোড় সরু হওয়ায় যানবাহন চলাচলে ভীষণ অসুবিধা হয়। তাঁদের দাবি, সেখানে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে রাস্তা প্রশস্ত করা হোক।

সওজ প্রকল্পের অতিরিক্ত পরিচালক জিকরুল হাসান বলেন, ‘সওজ যেভাবে অধিগ্রহণ করেছে তা সঠিক প্রক্রিয়ায় হয়নি। জমি অধিগ্রহণের কোনো টাকাও আমাদের দেওয়া হয়নি। কোনো দিন কোনো নোটিশও পাইনি। এ ছাড়া আমাদের জমি নিয়ে মামলা করেছি, যা ডিক্রিও পেয়েছি। আমি সওজের জমি দখল করে নয়, আমার পৈতৃক জমিতে ভবন নির্মাণ করেছি।’

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন বলেন, ‘কারো ভবন রক্ষার জন্য এক পাশ থেকে বর্ধিতকরণ বা প্রশস্তকরণ করা হয়নি। শুধু রাস্তা সোজা করার জন্য এক পাশ থেকে প্রশস্ত করা হয়েছে। কোনো পক্ষপাতিত্বে নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘ধামরাইয়ের নান্দেশ্বরী মৌজায় বিধিসম্মতভাবে অধিগ্রহণ করা ভূমিতেই সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে এবং তা প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। যদি কেউ অভিযোগ দেয়, তাহলে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। তবে সেখানে রাস্তার জন্য ৯০ ফুট সওজের জমি রয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা