kalerkantho

সোমবার । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ ফাল্গুন ১৪২৬। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস

ফুল আর ফুল

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফুল আর ফুল

ফুটতে শুরু করেছে আগুনরাঙা পলাশ। ছবিটি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার সগীর মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

আজ পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস। আজ ফাল্গুনে লাল ভালোবাসার দিন। ফুল ফুটুক না ফুটুক, আজ বসন্ত। ফাল্গুনে হাওয়ার দোল লেগেছে প্রকৃতিতে। ‘ফাগুনে ফুটল পলাশ/ গাছতলার মাটি দিল ছেয়ে।’ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতায় ফাগুনের পলাশ ফুল ধরা দিয়েছে এভাবেই। ফাগুনে এ দেশের প্রকৃতিরাজ্যে জুঁই, বকুল, মাধবীলতার মতো পলাশ গাছের পত্রশূন্য শাখাও ভরে উঠেছে রক্তপলাশে।

ভালোবাসা জানানোর প্রধান উপকরণই হলো ফুল। সারা বছরই ফুলের চাহিদা কমবেশি থাকে। তাই বিভিন্ন জাতের ফুলের চাষও কমবেশি করে থাকেন চাষিরা। তবে বিভিন্ন দিবসকে সামনে রেখে থাকে উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবহনের বিশেষ তৎপরতা। আমাদের রংপুর, গাইবান্ধা ও ঝিনাইদহ প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত।

ফুলের দ্বিতীয় রাজধানী : দক্ষিণাঞ্চলে ফুলের রাজধানী নামে খ্যাত যশোরের গদখালী। আর ফুলের দ্বিতীয় রাজধানী নামে খ্যাতি পেয়েছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ। যশোর ও ঝিনাইদহ জেলা থেকে সারা দেশে পাঠানো হয় হরেক রকমের ফুল। বাংলাদেশে ফুলের অর্ধেক চাহিদা পূরণ হয় এ দুই জেলার উৎপাদিত ফুলে। এ বছর ঝিনাইদহ জেলায় প্রায় সাড়ে ২০৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুলের আবাদ হয়েছে। প্রায় আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার ফুল বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকরা লিলিয়াম, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, গোলাপ, চন্দ্র মল্লিকাসহ নানা জাতের ফুলের আবাদ করেছেন। জেলার কালীগঞ্জ, গান্না বালিয়াডাঙ্গা, সিমলা, রোকনপুর, রাখালগাছি, বিনোদপুর, মনোহরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুলের আবাদ হয়।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালন কৃপাংশু শেখর বিশ্বাস জানান, ‘ফুল উৎপাদনে ব্যয় কম, আবার লাভ বেশি। যে কারণে কৃষকরা ফুল চাষে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। সারা বছরই কৃষকরা ফুল বিক্রি করে থাকেন। তবে বিভিন্ন দিবসে ফুলের চাহিদা বেশি থাকে। ফুল পরিবহন ও সংরক্ষণের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে উৎপাদিত অনেক ফুল নষ্ট হয়ে যায়।’

রংপুরের বিশেষ কায়দায় গোলাপ সংরক্ষণ : রংপুরের সব গোলাপ যেন তুলে রাখা হয়েছিল ফাল্গুন আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের জন্য। বিশেষ করে নগরজুড়ে গোলাপের যেন খোঁজই মিলছিল না। বাগান মালিকরা ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে গোলাপ উত্তোলন বন্ধ করে দেন। কারণ অন্যান্য সময়ে যেখানে প্রতিটি গোলাপ পাঁচ টাকায় বিক্রি হয়, সেখানে ভালোবাসা দিবসে একেকটি গোলাপ বিক্রি হয় ২০ থেকে ৫০ টাকায়। ভালোবাসা দিবসের আগে গোলাপ যেন ফুটে ঝরে না যায়, সে জন্য ফুটন্ত কুঁড়িতে পরিয়ে দেওয়া হয় বিশেষ ক্যাপ। এতে গোলাপের কুঁড়ি বড় হবে; কিন্তু ফুল ফুটে পাঁপড়ি ঝরে পড়ার সুযোগ পাবে না। এভাবে ১৫ দিন থেকে এক মাস পর্যন্ত গোলাপ সংরক্ষণ করা যায়।

রংপুর জেলায় এবার প্রায় পাঁচ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ করা হয়েছে। ফুল বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে প্রায় কোটি টাকার। নগরের মডার্ন মোড়, খটখটিয়া, সাতমাথাসহ বিভিন্ন এলাকার ফুলের বাগানগুলোতে চাষ করা হয়েছে গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাসসহ দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফুল। বাগান মালিকরা আরো জানান, পরিচর্যায় ফুলের বৃদ্ধি ঘটে। দিন-তারিখ হিসাব করে বাগানের পরিচর্যা করা হয়েছে, যাতে নির্ধারিত সময়ে ফুল উত্তোলন করা যায়।

সাদুল্যাপুরের ফুল : গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলা এখন ফুল চাষের জন্য নতুন পরিচিতি পেয়েছে। গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, গাঁদাসহ নানা ফুলে ছেয়ে গেছে ইদিলপুর, রসুলপুর, বনগ্রাম ইউনিয়নের ক্ষেত। এবার জেলার প্রায় ২২ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হয়েছে। ফুল বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে এক থেকে দেড় কোটি টাকার।

সাদুল্যাপুরের উপসহকারী কৃষি কর্মকতা রুহুল আমিন বলেন, ‘অন্য অনেক ফসলের চেয়ে ফুল চাষ লাভজনক। এটি বুঝতে পেরে দিন দিন চাষিরা ফুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ২০১৪ সালে এ এলাকায় মাত্র ২২ শতক জমিতে ফুল চাষ শুরু হয়। আর এখন উপজেলায় প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ শুরু হয়েছে।’

ইদিলপুর ইউনিয়নের তাজনগর গ্রামের গোলাপ চাষি মোখলেছুর রহমান বিপ্লব জানান, প্রতি মাসে অন্তত দেড় লাখ টাকার ফুল বিক্রি করেন তিনি। খরচ বাদে এখন তাঁর মাসিক আয় প্রায় লাখ টাকা। তাঁর সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এখন অনেকেই নানা ধরনের ফুল চাষ করছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা