kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

রাজশাহীর সমবায় মার্কেট ফাটল সংস্কারে উদ্যোগ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজশাহী নগরীর সমবায় সুপার মার্কেটের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে বিভিন্ন দোকান, সেখানকার ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। এতে করে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, মালোপাড়ায় প্রায় ১৬ কাঠা বাণিজ্যিক জায়গার ওপর সমবায় মার্কেটটি অবস্থিত। জরাজীর্ণ চারতলা এই ভবনের গুরুত্বপূর্ণ কলামের বেশ কয়েকটিতে চিড় ধরেছে। সেই চিড় দিয়ে কলামের রড দেখা যাচ্ছে। ছাদের বিমের ঢালাই খসে পড়েছে। নিচতলার দোকানগুলোর ছাদের ঢালাইসহ প্লাস্টার খসে পড়েছে। ঢালাই খসে ছাদের রড বেরিয়ে গেছে। মার্কেটের জীর্ণদশা ঢাকতে অনেক ব্যবসায়ী নামমাত্র নিজ দোকানে প্লাস্টার ও রং করে রেখেছে। একই চিত্র নিচতলা থেকে শুরু করে চারতলায় অবস্থিত মার্কেটটির কর্তৃপক্ষ রাজশাহী সমবায় ব্যাংকের কার্যালয় পর্যন্ত দেখা গেছে।

মার্কেট কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য মতে, মার্কেটের বিভিন্ন আয়তনের ৬২টি দোকানের প্রতিটি থেকে কর্তৃপক্ষ ভাড়া বাবদ আদায় করে দেড় শ থেকে ১২ শ টাকা। ভাড়া ঠিকঠাক আদায় হলে মাস শেষে কর্তৃপক্ষের ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় হতো। কিন্তু অনেক ব্যবসায়ী নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করে না। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের ট্যাক্স, আয়কর, বিদ্যুৎ বিলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা মিলিয়ে খরচ দাঁড়ায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। এই অর্থের জোগাড় না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন যেমন ঠিকমতো পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না, তেমনি মার্কেটটির সংস্কারও সম্ভব হচ্ছে না।

আরো জানা গেছে, শর্ত ভঙ্গ করে একটি পক্ষ মার্কেট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দোকান ভাড়া নিয়ে তা অন্যদের কাছে ভাড়া দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষকে এই পক্ষ দোকানভেদে দেড় শ থেকে ১২ শ টাকা ভাড়া পরিশোধ করলেও অন্যদের কাছ থেকে তারা মোটা অঙ্কের টাকা আয় করছে। ফলে কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মার্কেট সংস্কার করতে চাইলেও ব্যবসায় সাময়িক অসুবিধা হবে ভেবে ব্যবসায়ীদের ফাটল নিয়ে কোনো ভাবনা নেই বলে দাবি মার্কেট কর্তৃপক্ষের।

মার্কেটের বিভিন্ন দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা একটি পক্ষের কাছ থেকে দোকানগুলো ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন। ভাড়া বাবদ তাঁদের প্রতি মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। এর বাইরে সালামি দিতে হয়েছে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা। মার্কেট কর্তৃপক্ষের দাবি, এভাবে একজনের নামে দোকান বরাদ্দ নিয়ে অন্যজনকে দোকান ভাড়া দেওয়া অনিয়ম।

জানতে চাইলে সমবার সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জানান, টাকা দিয়ে দোকানের পজিশন নিয়েছেন। এখন কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাতে মার্কেটটি ভাঙার পাঁয়তারা করছে। আসলে বহুতল ভবন করতে তারা ডেভেলপারকে মার্কেট দিতে চাইছে। মার্কেটে ফাটল ধরেনি। মার্কেট চালুর পর থেকে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অজুহাতে ভাড়া বাড়ালেও এত দিন কোনো সংস্কার করেনি। এই মার্কেট বন্ধ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা পথে বসবে।

সমবায় ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন জানান, মার্কেট সংস্কারের জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তা জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে এই জায়গার ওপর বহুতল ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হলে মার্কেট পরিচালনার ব্যয় নির্বাহ করা সহজ হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। একই সঙ্গে ব্যবসার পরিধি বাড়বে। এ কারণে মার্কেটের বর্তমান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে মার্কেট কর্তৃপক্ষ এখানে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা