kalerkantho

রবিবার  । ১৫ চৈত্র ১৪২৬। ২৯ মার্চ ২০২০। ৩ শাবান ১৪৪১

১১৮ কক্ষ ফাঁকা

রামপালের ফয়লাহাট আবাসন প্রকল্প

হাওলাদার আ. হাদি, রামপাল (বাগেরহাট)   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লাহাট পার-গোবিন্দপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৪টি ব্যারাকের ১৭০ কক্ষের মধ্য ১১৮টিতে কোনো বাসিন্দা নেই। দীর্ঘদিন এসব কক্ষ শূন্য। প্রথম পর্যায়ে যাদের নামে এসব কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল তাদের অনেকে টাকার বিনিময়ে কক্ষ হস্তান্তর করে চলে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিগত ২০১১ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্প পর্ব এক ও দুই নির্মাণ করা হয়। প্রথম পর্বে ১৯টি ব্যারাকে পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট ৯৫টি ঘর এবং দ্বিতীয় পর্বে ১৫টি ব্যারাকে পাঁচটি করে ৭৫টি ঘর নির্মাণ করা হয়। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমানের উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই করে কক্ষগুলো বাসিন্দাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়। বেশির ভাগ বাসিন্দা কয়েক মাস নিয়মিত বসবাস করলেও পরে তারা এসব কক্ষ ছেড়ে তাদের আগের বাসস্থানে ফিরে যায়। কেউ কেউ টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে কক্ষ বিক্রি করে চলে গেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কক্ষ বিক্রি কিংবা অন্যকে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রথম পর্বে বরাদ্দ পাওয়া গোবিন্দপুরের তাতার শেখ, তারিক ওরফে কানা তারিক, সন্তোষপুর গ্রামের গুরুদাসী, গোবিন্দপুরের নাছিমা বেগম, সিরাজুল ইসলাম, এনাজ উদ্দিন, চাঁদপুরের হাসি বেগম, হোগলডাঙ্গা গ্রামের বাকী বিল্লাহ, ফয়লাহাটের নির্মল দাস, ধলদাহ গ্রামের ইয়াছিন আলী, রনসেনের আরজ আলী, সন্তোষপুরের আ. হালিম, রনসেনের ইউসুফ আলী, মোংলার বুড়ির ডাঙ্গার ইসলাম, রনসেনের শাহাদাত হোসেন, হোগলডাঙ্গার খাদিজা বেগম, গিলাতলার সোলায়মান হোসেন, ঝনঝনিয়া গ্রামের শাহারা বেগম থাকেন না। এ ছাড়া ভরসাপুরের জাকির হোসেনের নামে বরাদ্দ থাকলেও থাকেন পিরোজপুরের শহীদুল ইসলাম। হোগলডাঙ্গা গ্রামের আক্কাস আলীর নামে বরাদ্দ থাকলেও তিনি মারা গেছেন।

দ্বিতীয় পর্বের বাসিন্দা বাগেরহাটের ষাটগম্বুজের ফাতেমা সোহেল, পার-গোবিন্দপুরের সুফিয়া বেগম ও আলেয়া বেগম, ধলদাহ গ্রামের আ. কাদের, গোবিন্দপুর গ্রামের হুমায়ুন কবির, ধলদাহ গ্রামের রেজাউল শেখ, গোবিন্দপুর গ্রামের মোস্তফা, গোবিন্দপুর গ্রামের নুরু শেখ, ইলিয়াসের স্ত্রী কারিমা, হোগলডাঙ্গা গ্রামের জাহানারা বেগম, রণসেনের মাহামুদ শিকদার, রেজাউল হক, মানিকনগর গ্রামের ইসমাইল হোসেন, চাঁদপুর গ্রামের আসমা বেগম এবং ওই গ্রামের হারুন মজলিস, চাঁদপুরের মোজাফফর মলঙ্গী, সন্তোষপুর গ্রামের স্বপ্না খাতুন, পার-গোবিন্দপুরের নূর ইসলাম, হোগলডাঙ্গার নুরো মল্লিক, সিকি গ্রামের মজনুর রহমান, কাদিরখোলার জ্যোত্স্না বেগম, রামপাল সদরের ফৌজিয়া বেগম, গোবিন্দপুরের ইদ্রিস আলী, একই গ্রামের ছালেহা বেগম, মাহিরা বেগম, গিলাতলার নিলুফা বেগম, গোবিন্দপুরের সুমন শেখ, ধলদাহ গ্রামের আফসার আলী, খানপুর গ্রামের মিজানুর রহমান, সাপমারীর ইমরান হোসেন, হোগলডাঙ্গার জাকার শেখের স্ত্রী, পার-গোবিন্দপুরের আব্দুল খালেক, আকবর হোসেন, আবু বকর হাওলাদার, গোবিন্দপুরের এনায়েত হোসেন, আলী গাজী, ফিরোজ গাজী, দুখুমিয়া, আব্দুল হালিম, ইকবাল হোসেন, নুর জাহান, মঞ্জুর শেখ, আবু সাঈদ, আফজাল হোসেন, আ. রশিদ মোড়ল, আ. হালিম, চাঁদপুর গ্রামের নুর ইসলাম, সন্তোষপুরের ইসমাইল হোসেন, ধলদাহ গ্রামের ফসিয়ার শেখ, শিকির মারুফ শেখ, ফয়লাহাটের সম্পা, রনসেনের জেন্নাত আলী, রাজনগরের বাবু, মানিকনগরের আসমা বেগম, হাবিবুর রহমান, আজিজ মল্লিক, আ. মজিদ, হোগলাডাঙ্গার হুমায়ুন শেখ, ঝনঝনিয়ার সবুরা বেগম, ভাগার তাসলিমা বেগম, রাবেয়া বেগম, শংকরনগরের নাহার বেগম, রাজনগরের কুদ্দুস শেখ, ইকবাল হোসেন, আফিরুন বেগম, নুরুন্নাহার, সুফিয়া বেগম, দিদার হোসেন, হবিবুর মোল্লা, ফজিলাত, বিল্লাল হোসেন, এস্তেফা, আবু বকর, গৌরচন্দ্র পাল, সন্যাসী দাস, দেবদাস পাল, কৃষ্ণ পাল, সুনিল পাল, কর্ণ পাল, প্রফুল্ল পাল, শাহিদা বেগম, আশরাফ আলী, আ. সামাদ, দলিল উদ্দিন, আছারাত হোসেন, রানু বেগম, গিয়াস উদ্দিন, এনায়েত শেখ, শাহাজাদী, লতিফ শেখ, মমতাজ বেগম, নজরুল ইসলাম ঘর বরাদ্দ পেয়েও থাকেন না। তাঁদের নামে বরাদ্দ কক্ষ খালি পড়ে আছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শেখ মাসুম বিল্লাহসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আফসার আলী, আব্দুল আলী, মাসুমা বেগম, মৃত হাসমত আলী, মিজান শেখ, ইমরান হোসেন, ইকবাল হোসেন, নুর জাহান, নুর ইসলাম, আসমা বেগম, আ. মজিদ, নুর নাহার, ফজিলাত হোসেন, বিল্লাল হোসেন, হীরা বেগম, শাহিদা বেগম, আ. সামাদ, দলিল উদ্দিন, আছারাত হোসেন, গিয়াস উদ্দিন, এনায়েত হোসেন, শাহাজাদী বেগম, আ. লতিফ শেখ, নজরুল ইসলাম বরাদ্দ ঘর ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে চলে গেছেন। এঁদের প্রত্যেকের পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত বাড়িঘর রয়েছে।

এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তুষার কুমার পাল বলেন, ‘যাদের কক্ষ খালি পড়ে আছে এর তালিকা করে নতুন বাসিন্দাদের তা বরাদ্দ দেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা