kalerkantho

রবিবার  । ১৫ চৈত্র ১৪২৬। ২৯ মার্চ ২০২০। ৩ শাবান ১৪৪১

লক্ষ্মীপুরে খালের মাটি ইটভাটায় বিক্রি নেতার

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লক্ষ্মীপুরে চন্দ্রগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আনসারী সরকারি খাল থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন। সম্প্রতি তিনি সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের একটি খাল থেকে মাটি বিক্রি করে অন্তত পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে অবৈধভাবে মাটি কাটার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে ফসলি জমি ও আশপাশের এলাকা। এতে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে গত বুধবার দুপুরে চরশাহীর ওই বাইজ্জার দাঁড়া খাল এলাকা থেকে মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি পিকআপ ভ্যান জব্দ করে পুলিশ। এ সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, গত নভেম্বরে চরশাহী এলাকার ওয়াপদা খাল থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রির ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বাবুল আনসারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করে স্থানীয় লোকজন। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, উপজেলার চরশাহীর সোনালি ব্রিক ফিল্ডের পশ্চিম পাশে বাইজ্জার দাঁড়া খাল থেকে প্রায় ১৫ দিন ধরে মাটি কেটে বিক্রি করছেন বাবুল। প্রতিদিন একটি খননযন্ত্র (ভেকু) দিয়ে পাঁচটি পিকআপ ভ্যানের মাধ্যমে বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি পিকআপ জব্দ করে। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা বাবুল আনসারী কৌশলে পালিয়ে যান।

অভিযোগ অস্বীকার করে বাবুল আনসারী বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান খাল সংস্কারের জন্য মাটি কাটিয়েছেন। মাটিগুলো আশপাশের সড়ক ও গর্তে ফেলা হয়েছে। তবে খাল থেকে মাটি কেটে বিক্রি করার বিষয়টি সঠিক নয়।’

এ বিষয়ে চরশাহী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গোলজার মোহাম্মদ বলেন, ‘ব্রিক ফিল্ডের কারণে খাল ভরাট হয়ে গেছে। এতে খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। পানিপ্রবাহ চলমান রাখতে মাটি কাটতে বলেছি। মাটিগুলো আশপাশের সড়ক ও গর্তে ফেলা হয়েছে।’

চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানান, মাটি পরিবহনের কারণে অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। কাগজপত্র না থাকায় গাড়িগুলো জব্দ করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল বলেন, ‘বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি। তবে ইউপি চেয়ারম্যান কোনোভাবেই বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার অনুমতি দিতে পারবেন না। কেউ যদি খাল থেকে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া আছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা