kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকৌশলীকে তুলে নেওয়ার হুমকি শিক্ষকের!

লোকপ্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. জুবায়ের ইবনে তাহেরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ

বেরোবি প্রতিনিধি   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রকৌশলীকে তুলে নেওয়ার হুমকি শিক্ষকের!

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রধান জুবায়ের ইবনে তাহের সহকারী প্রকৌশলী (পুর) কমলেশ চন্দ্র সরকারকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে তুলে নেওয়ার হুমকি দেন। কিছুক্ষণ পর বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী পাঠিয়ে অপমান করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রারের কাছে গত রবিবার আবেদন করেন ভুক্তভোগী কমলেশ সরকার।

আবেদনে কমলেশ সরকার জানান, গত রবিবার দুপুরে লোকপ্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. জুবায়ের ইবনে তাহের তাঁর কক্ষে দুর্গন্ধ আসার অভিযোগ জানান। তখনই প্লাম্বার মো. আইয়ুব আলী ও কেয়ারটেকার মো. জিয়াউর রহমানকে লোকপ্রশাসন বিভাগে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান যে প্লাম্বিং নয়, সমস্যাটি পরিচ্ছন্নতার এবং কাজটি সুইপারদের। তাৎক্ষণিক সুইপারদের ডাকা হয়। সুইপার গোপেন বলেন, কাজটি তিনি একা করতে পারবেন না, বাইরের একজন লোক লাগবে। তখন বিভাগীয় প্রধান জিআই তার ও কেরোসিন তেল কিনতে ২০০ টাকা দেন।

এরপর প্লাম্বার আইয়ুব আলী বিভাগীয় প্রধানকে বলেন, ইঞ্জিনিয়ার তাঁকে অন্য দপ্তরে কাজের জন্য ডেকেছেন। জিআই তার ও কেরোসিন তেল কেনা পর্যন্ত সেই কাজটি দেখে আসতে চাইলে তাঁকে সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়। তাঁকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকার নির্দেশ দিলে তাতে অস্বীকৃতি জানান প্লাম্বার আইয়ুব আলী। এ সময় কমলেশকে উত্তেজিত হয়ে ফোন দিলে তিনি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। তখন তাঁকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিভাগ থেকে ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থী পাঠান। এ সময় প্রক্টর অফিসের কর্মকর্তা মো. হাফিজ আল আসাদ ও প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুরোধে শিক্ষার্থীরা ফিরে যান। তবে বিষয়টি তাঁর জন্য হুমকিস্বরূপ ও অপমানজনক।

তা ছাড়া গত বছর ২৩ এপ্রিল লোকপ্রশাসন বিভাগের ৩৭তম একাডেমিক সভা চলাকালে তাঁর নিজ বিভাগের নারী শিক্ষকের উদ্দেশে অশ্রাব্য, আপত্তিকর ও অশোভন কথাবার্তা বলার অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ওই নারী শিক্ষক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর অভিযুক্ত শিক্ষক জুবায়ের ইবনে তাহের বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার আব্দুল হাকিমের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। বিষয়টি নিয়ে গত ১ অক্টোবর গণিত বিভাগের শিক্ষক আর এম হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। কিন্তু ওই শিক্ষকের প্রভাবে তদন্ত রিপোর্ট আজও আলোর মুখ দেখেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক জুবায়ের ইবনে তাহের কিছুই জানেন না বলে এড়িয়ে যান। পরে তিনি বলেন, ‘এটা আমার বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হতে পারে। তবে আমি যেটা শুনেছি, স্টুডেন্টরা বাথরুম অপরিষ্কারের বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরে অভিযোগ করতে গিয়েছিল। এখানে আমাকে কিভাবে জড়াল। এনিওয়ে, এটা ষড়যন্ত্রই হবে।’ তবে হুমকির বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি একজন বিভাগীয় প্রধান। আর সে আমার নিচের পদে অবস্থান করছে। তাকে তো আমি অর্ডার করলেই আমার অফিসে আসতে বাধ্য। তাই এ ধরনের কোনো কথা বলার প্রশ্নই আসে না। সে খুব সম্ভবত কোনো একটা ষড়যন্ত্র করছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা