kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বাহুবলে নদী ভরাট করে চাষাবাদ ইউপি সদস্যের

করাঙ্গী নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বিঘ্ন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাহুবলে নদী ভরাট করে চাষাবাদ ইউপি সদস্যের

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পশ্চিম ভাদেশ্বর গ্রামে করাঙ্গী নদী ভরাট করে চাষাবাদ করছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য। ছবি : কালের কণ্ঠ

হবিগঞ্জের বাহুবলে এক ইউপি সদস্য নদী ভরাট করে আবাদি জমিতে রূপান্তর করেছেন।

আর এ কাজে টিআর, কাবিখাসহ সরকারি উন্নয়নকাজের শ্রমিক ব্যবহার করেছেন তিনি। নদীর জায়গায় কৃষিজমি করায় বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাহুবল উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের পশ্চিম ভাদেশ্বর গ্রাম নিয়ে গঠিত ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদ মিয়া এবার দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর দৃষ্টি পড়েছে করাঙ্গী নদীর ওপর। বাড়ির পাশের করাঙ্গী নদীর পারসংলগ্ন নিজের কৃষিজমির সঙ্গে থাকা ২৫ শতাংশ নদীর জায়গা দখল করে অবলীলায় চাষবাস করছেন।

বছরতিনেক আগে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে নদীর জায়গা ভরাট করেছেন তিনি। তারপর নতুন পারে বাঁশঝাড় ও ইউক্যালিপটাস গাছ লাগিয়ে দিয়েছেন। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বিঘ্ন ঘটছে। নদীর উল্টো পার ক্রমাগত ভাঙনের মাধ্যমে সেখানকার মানুষের জমির ক্ষতি হচ্ছে। এমন কাজ করার আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কোনো কর্মকর্তাকে জানানোর প্রয়োজন বোধ করেননি তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, বর্তমান সরকার নদী দখল, ভূমি দখল কিংবা সব ধরনের দূষণ বন্ধে কঠিন অবস্থানে রয়েছে। সেখানে ফরিদ মিয়া সরকারবিরোধী কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি আরো জানান, এর আগে এলজিএসপি, টিআর, কাবিখা, কাবিটা, এডিসি, ইউনিয়ন ফান্ড ইত্যাদি প্রকল্পের দৈনিক মজুরির শ্রমিকদের দিয়ে সরকারি কাজের পরিবর্তে নিজের বাড়ির কাজ করিয়েছেন ইউপি সদস্য ফরিদ মিয়া। আর শ্রমিকদের পারিশ্রমিক দিয়েছেন সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা থেকে। এ ছাড়াও ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকার কয়েকজন নিরীহ মানুষের ফসল কেটে নেওয়াসহ সীমানা পিলার সরিয়ে জমি দখল করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু এ ব্যাপারে তাঁর বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না।

ইউপি সদস্য ফরিদ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো জমি বাড়াইনি। বরং নদীতে আমার আরো জমি আছে। আমার ম্যাপ ও ডকুমেন্টস আছে। তদন্ত করলে এর প্রমাণ পাবেন।’

বাহুবল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) খ্রিস্টফার হিমেল রিচিল বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা