kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

নান্দাইলে আমন সংগ্রহ অভিযান

কৃষক খুঁজছে গ্রাম পুলিশ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ    

২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কৃষক খুঁজছে গ্রাম পুলিশ

ময়মনসিংহের নান্দাইলে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে আমন ধান সংগ্রহ করার এক মাস আট দিন পার হলেও গত শনিবার পর্যন্ত তেমন কোনো সাড়া মেলেনি। এ উপজেলায় দুই হাজার ২৮৯ টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ থাকলেও এ পর্যন্ত মাত্র ২০০ টন ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। এ অবস্থায় প্রশাসন থেকে গ্রামে গ্রামে গিয়ে কৃষক খুঁজতে গ্রাম পুলিশকে ‘তাগাদাপত্র’ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে উপজেলার গ্রাম পুলিশরা জানান, তালিকা ধরে কৃষক খুঁজে পেলেও অনেকেই জানেন না তাঁদের নাম তালিকাভুক্তির বিষয়টি। আবার তালিকায় নাম আছে—এমন অনেকেই ঢাকায় থাকেন কিংবা নিজের কোনো জমিজমা নেই।

একটি সূত্র জানায়, গ্রাম পুলিশদের কাছ থেকে জেনে এলাকার অনেকেই গুদামে ধান দিতে বিকল্প পথ খোঁজ করছেন।

শেরপুর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ আব্দুর রাশিদ জানান, তিনি তালিকা ধরে কৃষক খোঁজ করে জানতে পারেন বিষ্ণপুর গ্রামের ইজ্জত আলীর ছেলে জালাল উদ্দিন ও সংগ্রামখেলি গ্রামের আহাম্মদ আলীর ছেলে সুরুজ আলীর নিজের কোনো জমি নেই।

একই ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সোহরাব জানান, লংগারপাড়ের কৃষক ফখরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাঁর নামও তালিকাভুক্ত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৭ ডিসেম্বর থেকে ধান কেনা শুরু হয়। কিন্তু এত দিনে মাত্র ২০০ টন ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। গত বুধবার ও শনিবার নান্দাইল উপজেলা খাদ্য বিভাগের দুটি খাদ্যগুদামে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকের কোনো উপস্থিতি নেই।

স্থানীয় কৃষক আবুল বাশার বলেন, লটারিতে বাছাই করা কৃষকের তালিকায় তাঁর নাম উঠার কথা তিনি জানতেন না। গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে গত মঙ্গলবার তিনি তা জানতে পেরেছেন।

এদিকে শেরপুর ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান খোকন জানান, তিনি একজন কৃষক। তাঁর কৃষি কার্ডও রয়েছে। কিন্তু চলতি আমন সংগ্রহ অভিযানের তালিকায় তাঁর নাম নেই।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বোরো মৌসুমে ৮৯ হাজার টন ধান উৎপাদিত হয়েছে। কিন্তু সরকারিভাবে দুই দফায় মাত্র এক হাজার ৫০০ টন ধান সংগ্রহ করা হয়। চলতি আমন মৌসুমে ৬২ হাজার ৯৭৮ টন ধান উৎপাদিত হয়েছে। বিপরীতে সরকার ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে মাত্র দুই হাজার ২৮৯ টন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নান্দাইলের ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আলাল উদ্দিন বলেন, ‘সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের ঘোষণা প্রচারের পর ধানের বাজারদর বেড়ে গেছে। এতে তো কৃষকই লাভবান হচ্ছে। যেসব কৃষক ধান নিয়ে গুদামে আসছে, আমরা তাদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করছি। এভাবে আমরা ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত দেখব। তার পরও যদি পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন না হয়, তাহলে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে কৃষকদের ডেকে তাদের ধান কেনা হবে। কারণ আমরা কোনো সিন্ডিকেট রাখতে চাই না।’ তিনি আরো বলেন, ‘২০১৪-২০১৫ সালে তৈরি করা কৃষকদের তালিকাও হালনাগাদ করার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ তালিকাভুক্ত অনেক কৃষক মারা গেছেন। কিন্তু তাঁদের কৃষি কার্ড অন্যের হাতে ঘুরছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা