kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ফসলি জমিতে পুকুর নয়

ভাঙ্গুড়ায় তৎপর প্রশাসন

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফসলি জমিতে পুকুর নয়

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ফসলি জমিতে পুকুর খনন বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। ছবি : কালের কণ্ঠ

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমিতে পুকুর খননকাজ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) গত দুই দিনে পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে অন্তত ছয়টি পুকুর খননকাজ বন্ধ করে দেন। খননকৃত এসব পুকুরের মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় যাচ্ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া পৌরসভার জগতলা মহল্লায় গোলাম রসুল, পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের টলটলিয়াপাড়া গ্রামের লিটন আহমেদ, রাঙ্গালিয়া গ্রামের রাজু আহমেদ ও জাহাঙ্গীর হোসেন এবং খানমরিচ ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ ও শ্রীপুর গ্রামের রুহুল আমিন গত সপ্তাহে তাঁদের ফসলি জমিতে পুকুর খননকাজ শুরু করেন। এ অবস্থায় আশপাশের জমির মালিকরা ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসনের কাছে ফসলি জমি রক্ষার আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউল আলম খননকাজ চলা এসব পুকুরে অভিযান চালিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। এ সময় তাঁরা একাধিক খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) জব্দ করেন। কিন্তু প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্থান ত্যাগ করার পর জমির মালিকরা আবারও খননকাজ শুরু করেন। পরে বিষয়টি জেনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের (নায়েব) দিয়ে শুক্রবার ফের অভিযান চালান। এরপর জমির মালিকরা খননকাজ বন্ধ করতে বাধ্য হন।

গতকাল শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, খননকাজ বন্ধ হওয়া জমিগুলো পাকা সড়কের পাশে অবস্থিত। এসব জমিতে রবিশস্যসহ নানা জাতের ফসল আবাদ হতো। ফসল নষ্ট করে গত সপ্তাহে খননকাজ শুরু করে জমির মালিকরা। এসব জমিতে পুকুর খনন হলে আশপাশের জমিতেও ফসল আবাদ হুমকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা অন্য কৃষকদের।

খননকাজ বন্ধ হওয়া জমির মালিক গোলাম রসুল বলেন, ‘ফসলি জমিতে পুকুর খনন সরকারিভাবে নিষিদ্ধ তা জানা ছিল না। তাই পুকুর খনন শুরু করা হয়েছিল। এখন জমিগুলো কেটে একেবারে নষ্ট হয়ে গেল। প্রশাসনের কাছে আবেদন করে পুকুর খননের অনুমতি চাইব।’

টলটলিয়াপাড়ার কৃষক রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছরই বিভিন্ন গ্রামে ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন হয়। এর ফলে প্রচুর পরিমাণে আবাদি জমি কমে যাচ্ছে। এতে মারাত্মকভাবে পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে। যা ভবিষ্যতের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ বছর উপজেলা প্রশাসনের পুকুর খনন বন্ধে এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়।’

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, ফসলি জমি নষ্ট করে কোনো পুকুর করা যাবে না। সরকারি এমন নির্দেশনা উপেক্ষা করে কয়েকজন পুকুর খনন করতে শুরু করেছিল। তাই অভিযান চালিয়ে এসব পুকুর খননকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা