kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

শাজাহানপুর

ভাতার নামে প্রতারণা

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাতার নামে প্রতারণা

বগুড়ার শাজাহানপুরে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গরিব-অসহায়দের কাছ থেকে টাকা নিয়ে উধাও ইউনিয়ন পরিষদের এক দালাল। রহস্যজনক কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক সোহরাব হোসেন ছান্নু ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা পারভীন ভাতার কার্ডের সুবিধাভোগী নির্বাচনে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিজেরাই মাঠে নেমেছেন। গত বৃহস্পতিবার উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নে সুবিধাভোগী নির্বাচনে যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নু ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা পারভীন স্বশরীরে উপস্থিত থেকে যাচাই-বাছাই করেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, আড়িয়া ইউনিয়নে ৮২টি বয়স্ক, ৬৫টি বিধবা ও ১১০টি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড পেতে হাজির হয় সহস্রাধিক বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী নারী ও পুরুষ। উপজেলা প্রশাসন নিয়মতান্ত্রিকভাবে যাচাই-বাছাই করে ২৫৭ জন সুবিধাভোগী নির্বাচনে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। এ সময় যাচাই-বাছাইয়ে আসা মানুষের মধ্যে শুরু হয় কানাঘুষা। বের হয়ে আসে থলের বিড়াল। টাকা দেওয়ার পরও কার্ড না পাওয়ার অজানা আশঙ্কায় পড়ে দরিদ্র মানুষেরা।

জানা গেছে, ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে মোশারফ হোসেন নামের ইউনিয়ন পরিষদের এক দালাল চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সঙ্গে সলাপরামর্শ করে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে দেড় হাজার থেকে তিন হাজার টাকা করে নিয়েছেন।

পদ্মপাড়া গ্রামের সাহেনা বেওয়া, জোবেদা বেওয়া, মাজেদা বেওয়াসহ অনেকে জানান, বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্যকে দেড় হাজার টাকা করে দিয়েছেন।

বামুনীয়া ফকিরপাড়া গ্রামের রুমা বেওয়া, জরিনা বেওয়াসহ অনেকে জানান, বিধবা ভাতার কার্ডের জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্যের কথায় ইউনিয়ন পরিষদের মোশারফ হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে তিন হাজার টাকা করে দিয়েছেন।

বামুনীয়া চাঁদবাড়িয়া গ্রামের মিরাজুল ইসলাম (১৮) নামের একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী জানান, প্রতিবন্ধী কার্ডের জন্য মোশারফকে দেড় হাজার টাকা দিয়েছেন।

আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান জানান, টাকা নেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। বৃহস্পতিবার যাচাই-বাছাইয়ের সময় জানতে পেরেছেন তিনি। মোশারফ হোসেন নামের লোকটি ঢাকার এক ব্যক্তির মাধ্যমে অতিরিক্ত কার্ড করে নিয়ে আসার কথা বলে নাকি টাকা নিয়েছেন। শুধু এই ইউনিয়ন থেকেই নয়, উপজেলার অন্য ইউনিয়ন থেকেও টাকা সংগ্রহ করেছেন তিনি। তবে মোশারফ যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন তাদের দ্রুত টাকা ফেরত দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা পারভীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক সোহরাব হোসেন ছান্নু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণমানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আর তাই মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায় করতেই উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে মাঠে নেমেছেন তিনি। উপযুক্ত ব্যক্তিরাই ভাতার কার্ড পাবে। এখানে কোনো অনিয়ম চলবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা