kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

পদে পদে অনিয়ম-দুর্নীতি

সৈয়দপুর বিসিক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি   

২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) অধীনে পরিচালিত সৈয়দপুর দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে খণ্ডকালীন প্রশিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ কোর্সের কাঁচামাল কেনা, প্রচারকাজে বিজ্ঞাপনসহ বিবিধ ব্যয়ে এসব অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নীলফামারীতে অবস্থিত শিল্প সহায়ক কেন্দ্রের উপব্যবস্থাপক হুসনে আরা খাতুনের যোগসাজশে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা নুরেল হকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের নিয়ামতপুর এলাকায় বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হয় ১৯৮৪ সালে। তখন শহরের নিয়ামতপুরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসংলগ্ন এলাকায় ৯৬ শতাংশ জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠে বিসিক নৈপুণ্য বিকাশ কেন্দ্র। সৈয়দপুরের মতো উত্তরাঞ্চলের পাবনা, রাজশাহী ও দিনাজপুরে একটি করে বিসিক দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র রয়েছে। মূলত এলাকার বেকারদের স্বল্প খরচে ও দক্ষ প্রশিক্ষক দ্বারা কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কেন্দ্রটি স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন বিসিক নৈপুণ্য বিকাশ কেন্দ্রটিতে বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ কোর্স চালু ছিল। পরে বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে কেন্দ্রটির প্রশিক্ষণ কোর্সের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়। আর ২০১৫ সালে কেন্দ্রটির নাম পরিবর্তন করে বিসিক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করা হয়।

বর্তমানে কেন্দ্রটিতে চারটি বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ কোর্স চালু রয়েছে। এগুলো হচ্ছে রিপেয়ারিং ইলেকট্রনিক গুডস, ইলেকট্রিক্যাল হাউস ওয়্যারিং অ্যান্ড মোটর ওয়েন্ডিং, কম্পিউটার অফিস প্যাকেজ অ্যান্ড ইন্টারনেট ব্রাউজিং এবং কম্পিউটার গ্রাফিকস ডিজাইন। এখানে প্রশিক্ষক রয়েছেন চারজন। তাঁদের মধ্যে শুধু ইলেকট্রিক্যাল হাউস ওয়্যারিং অ্যান্ড মোটর ওয়েন্ডিং বিষয়ের কোর্সের প্রশিক্ষক পদে স্থায়ীভাবে একজন প্রশিক্ষক রয়েছেন। অবশিষ্ট তিনটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ কোর্সের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে লোক নিয়োগ করা হয়ে থাকে। অনিয়মের আশ্রয়ে এসব লোক নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চারটি বিষয়ের প্রশিক্ষণ কোর্সের জন্য একসঙ্গে একটি ছোট সাইজের লিফলেট প্রকাশ করেন। এ ছাড়া অল্প সময় মাইকিং করে প্রচারের জন্য বরাদ্দের পুরো টাকা পকেটস্থ করেন। আর কাঁচামাল কেনার ক্ষেত্রেও একই কৌশল অবলম্বন করেন তাঁরা।

সম্প্রতি বিসিক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কম্পিউটার অফিস প্যাকেজ অ্যান্ড ইন্টারনেট ব্রাউজিং কোর্সের মাত্র পাঁচজন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এ সময় কোনো প্রশিক্ষককে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

কম্পিউটার অফিস প্যাকেজ অ্যান্ড ইন্টারনেট ব্রাউজিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ কোর্সের শিক্ষার্থীরা জানান, তাঁদের কম্পিউটারগুলো ঠিকভাবে কাজ করে না। দীর্ঘদিন ধরে এসব সার্ভিসিং না করায় অনেক সময় কমান্ড অনুসরণ করে না। ফলে অনেক কষ্ট করে প্রশিক্ষণ নেন তাঁরা। এদিকে কম্পিউটার অফিস প্যাকেজ অ্যান্ড ইন্টারনেট ব্রাউজিং বিষয়ে কোর্সের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ইন্টারনেট সংযোগ নেই। ফলে প্রশিক্ষণার্থীরা ব্রাউজিং শিক্ষা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে বিসিক নীলফামারী শিল্প সহায়ক কেন্দ্রের উপব্যবস্থাপক হুসনে আরা খাতুন ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা নুরেল হক বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি পরিচালনায় সরকারিভাবে পাওয়া বরাদ্দ যথাযথভাবে ব্যয় করা হচ্ছে। এখানে কোনো রকম অনিয়ম ও দুর্নীতি করার সুযোগ নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা