kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

চলনবিলে খেজুরগাছে বিষ দিয়ে পাখি শিকার

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি   

২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চলনবিলে খেজুরগাছে বিষ দিয়ে পাখি শিকার

নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিলে খেজুরগাছে দানাদার বিষ লাগিয়ে দিচ্ছেন এক পাখি শিকারি (বাঁয়ে); বিষ মেশানো খেজুরের রস খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে পাখি। ছবি : কালের কণ্ঠ

জীববৈচিত্র্যে ভরপুর চলনবিল শুধু মৎস্যভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত নয়, এ বিল দেশি ও অতিথি পাখির এক বিশাল চলনভূমি। প্রতিবছর শীতকালে এ বিলে আগমন ঘটে হাজার হাজার অতিথি পাখির। এসব অতিথি পাখি আর নানা জাতের দেশি পাখির পদচারণে চলনবিলের প্রকৃতি ও পরিবেশ হয়ে ওঠে অপরূপ সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি।

কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু শিকারি বিভিন্ন কায়দায় ফাঁদ পেতে দিনের পর দিন নিধন করে চলেছে পাখি। শিকারিচক্র এত দিন বন্দুক, কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন ফাঁদ ব্যবহার করলেও এবার পাখি শিকারে অভিনব কায়দা বেছে নিয়েছে। খেজুরগাছের রসের হাঁড়িতে দানাদার বিষ মিশিয়ে পাখি শিকার করছে তারা। আর সামান্য টাকার লোভে এসব পাখি বিক্রি করছে স্থানীয় নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে। এতে একদিকে যেমন বিষক্রিয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনে ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে পাখি নিধনে সৌন্দর্য ও ভারসাম্যের প্রভাব পড়ছে পরিবেশ ও প্রকৃতির ওপর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের সিংড়া উপজেলার কৃষ্ণপুর আত্রাই নদীর বাঁধে প্রায় ২০টি খেজুরগাছের রসের হাঁড়িতে দানাদার বিষ মিশিয়ে শালিক, বুলবুলিসহ শতাধিক দেশি প্রজাতির পাখি নিধন করছে শিকারিরা।

চলনবিলের লেখক ও গবেষক সৌরভ সোহরাব বলেন, ‘পাখি নিধন আইনটির যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় চলনবিল এলাকায় প্রতিনিয়ত পাখি শিকার হচ্ছে।’

সিংড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘চলনবিল একটি বৃহৎ এলাকা হওয়ায় পাখি শিকার বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এ বিষয়ে চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক সভা করছে বাংলাদেশ বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট এবং রাজশাহী বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা