kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

প্রায় আড়াই কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জে ভুয়া এনজিও

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রায় আড়াই কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে ভুয়া এনজিও খুলে সাধারণ মানুষের প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে জনপ্রতিনিধিসহ একটি চক্রের বিরুদ্ধে। প্রভাবশালী হওয়ায় চক্রটির বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে পারছে না। তবে সব জেনেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্থানীয় সমবায় অফিস।

জানা গেছে, উপজেলার বহুলী ইউনিয়ন সরাইচণ্ডি গ্রামে সাবেক ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদিনের ছেলে সামিদুল ইসলাম ২০১০ সালে কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নামে একটি ভুয়া এনজিও খোলেন। তাঁর স্ত্রী বর্তমানে মহিলা ইউপি সদস্য। পরবর্তী সময়ে সঞ্চয়সহ ঋণ কার্যক্রম শুরু করেন। নানা রকমের সুযোগ-সুবিধা ও বাড়তি মুনাফার প্রলোভন দেখানো হয়। ২০১৩ সালে ইছামতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি নামে আরেকটি এনজিও খোলেন তিনি। তখন উপজেলা সমবায় অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে সঞ্চয়, ডিপিএসসহ নানা কার্যক্রম শুরু করা হয়।

এদিকে সঞ্চয়ী গ্রাহকদের টাকা জমানোর মেয়াদ শেষ হলেও তাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হয় না। অনেক গ্রাহকেরই অভিযোগ, সামিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রথম দিকে টাকা ফেরত দেওয়া হবে বললেও পরে তিনি তা ফেরত দেননি।

গত ইউপি নির্বাচনে স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হওয়ার পর বেপরোয়া হয়ে ওঠেন সামিদুল। ২০১৯ সালের জুনে এনজিও দুটি বন্ধ করে প্রায় আড়াই কোটি টাকা লুটে নেন। অর্থ ফেরত চাইলে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। তা ছাড়া ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের নামে অনেকের কাছ থেকে টাকা নিলেও এখন তা আর ফেরত দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতার নামেও টাকা নিয়েছেন। এখন কেউ টাকা ফেরত চাইলে হুমকি আর মামলার ভয় দেখানো হয়। এত অন্যায় করার পরও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় তিনি দাপটের সঙ্গেই টিকে আছেন।

ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. চয়ন শেখ বলেন, ‘অতিরিক্ত মুনাফার আশায় সঞ্চয়ী হিসাব খুলেছিলাম। কিন্তু এখন অর্থ ফেরত চাইলে তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ভয় দেখান। মামলার হুমকি দেয়।’

আরেক গ্রাহক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার দুটি হিসাব খোলা হলেও এখনো পাওনা টাকা ফেরত পাইনি। মামলার ভয়ে আর তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের কারণে টাকা চাইতে ভয় হয়।’

তবে ইউপি সদস্য আয়শা সিদ্দিকা দাবি করেন, কারো টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়নি। আর ক্ষতমার জোরে কোনো অন্যায় কাজ করে না সামিদুল।

কথিত এনজিওর মালিক সামিদুল প্রথমে বলেন, তাঁর সব টাকা মাঠে পড়ে আছে। পরে বলেন, এনজিওর ম্যানেজার তাঁর টাকা নিয়ে চলে গেছেন।’ তার পরও কারো টাকা মার যাবে না বলে জানান তিনি।

সিরাজগঞ্জ উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আমাত-উল-ইলাহ খান জানান, কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নামে কোনো এনজিও নেই। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা