kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

হাওরে বাঁধের কাজে গাফিলতি

যথাসময়ে শুরু হয়নি ১০০ প্রকল্পের কাজ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাওরে বাঁধের কাজে গাফিলতি

সুনামগঞ্জে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে প্রতিযোগিতা করে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী কাজের অগ্রগতি নেই। অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ, অক্ষত বাঁধে সমান বরাদ্দসহ হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের বরাদ্দ লোপাট করতে এবার প্রকল্প গ্রহণের হিড়িক পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অনুমোদিত ৭২৫টি প্রকল্পের মধ্যে মাত্র ৬২৫টি প্রকল্পের নামকাওয়াস্তে কাজ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এখনো ১০০ প্রকল্পের কাজ শুরুই হয়নি।

জেলা কাবিটা মনিটরিং ও বাস্তবায়ন কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাওরের ফসল রক্ষায় ৭২৫টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আরো কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। অপ্রয়োজনী প্রকল্প গ্রহণ, অনুমোদন ও অক্ষত প্রকল্পে সমান বরাদ্দ নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’ অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাতিলের জন্য স্মারকলিপিও দিয়েছে। তারা যথাসময়ে কাজ শুরু না করায় হাওরের ফসল পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকিতে থাকবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনহীন প্রকল্পের পাশাপাশি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন প্রকল্পে সমান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া প্রয়োজনীয় কয়েকটি স্থানে প্রকল্পই নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে কৃষক ও কৃষক নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে তাঁরা মানববন্ধন ও সমাবেশের মাধ্যমে প্রকাশ্য দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।

সুনামগঞ্জ পাউবো জানিয়েছে, হাওরের বাঁধ সংস্কার ও মেরামতের কাজ পিছিয়ে থাকলেও ক্লোজারগুলোতে (ভাঙনকবলিত গভীর এলাকা) আগে কাজ শুরু করা হয়েছে। তাঁদের মতে, ক্লোজারের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে। তবে অন্য প্রকল্পগুলোতে কাজ আংশিক শুরু হয়েছে। দ্রুতগতিতে করে যথাসময়ে কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে কৃষকরা জানিয়েছেন, এখনো ক্লোজারগুলোতে অর্ধেক কাজও হয়নি। অধিকাংশ ক্লোজারে এখনো মাটিই পড়েনি। দিরাই, শাল্লা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, জগন্নাথপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় হাওর রক্ষা বাঁধের কাজে সবচেয়ে বেশি বিলম্ব হচ্ছে বলে কৃষকদের অভিযোগ।

শাল্লার কৃষক নেতা অমর চাঁদ দাস বলেন, ‘এবার হাওরের কাজে বেশি গাফিলতি হচ্ছে। এখনো সব প্রকল্পে কাজ শুরুই করতে পারেনি পিআইসি। আবার অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় দু-একটি প্রকল্প কারণ ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে। আমাদের এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানেই এমন ঘটনা ঘটেছে। এখন হাওরের বাঁধের কাজ ৬০-৭০ শতাংশের বেশি শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনো অনেক প্রকল্পে কাজ শুরুই করা যায়নি। সময়মতো কাজ না হলে বাঁধ টেকসই হয় না, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণে এসব প্রকল্পের কাজ ঝুঁকিতে থাকে।’

ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইর রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমানুর রাজা চৌধুরী বলেন, ‘আমরা হাওরের কৃষকের উদ্বেগ নিয়ে আতঙ্কিত। এবারের কাজ নিয়ে কৃষকরা সন্তুষ্ট নন। তাঁরা জানিয়েছেন, বিতর্কিত অনেক লোক পিআইসিতে যুক্ত থেকে নানা অনিয়মের চেষ্টা করছেন। তাই আমাদের স্পষ্ট কথা, কাজ যথাসময়ে ও যথানিয়মে শেষ করতে হবে। কিন্তু অনেক সময় আমাদের কথাও মানা হচ্ছে না।’

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলায় ৭২৫টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আরো কিছু বাড়তে পারে। গতকাল পর্যন্ত ৬২৫টি প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে। সব বাঁধে সমানুপাতিক হারে কাজ না হলেও ক্লোজারের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তা ছাড়া যেসব এলাকায় কাজে বিলম্ব হচ্ছে আমরা সেসব এলাকায় ত্বরিত্গতিতে কাজ শেষ করার চেষ্টা করব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা