kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

বিদ্যালয় মেরামত ও স্লিপ ফান্ডের টাকা লুটপাট!

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিদ্যালয় মেরামত ও স্লিপ ফান্ডের টাকা লুটপাট!

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন মেরামত ও স্লিপ ফান্ডের টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস ও প্রকৌশল অফিসের সহযোগিতায় দায়সারাভাবে কাজ করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বরাদ্দ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। শিক্ষার্থীদের কাব ও খুদে ডাক্তারের পোশাক কিনেই স্লিপ ফান্ডের টাকা শেষ করেছেন অনেক প্রধান শিক্ষক। প্রধান শিক্ষকদের কাছে এই পোশাক বিক্রি করেছে শিক্ষা অফিস। এমনকি স্লিপ ফান্ড থেকে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন কেনার জন্য এক বছর আগে টাকা তুলে নিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো প্রধান শিক্ষকই তা কেনেননি। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন মেরামত ও স্লিপ ফান্ডের নামে বরাদ্দ লাখ লাখ টাকা এভাবেই লুটপাট হয়েছে। তবে বরাদ্দ টাকার যথাযথ ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষা অফিস ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা।

জানা যায়, ভাঙ্গুড়ায় ৯৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২২টি বিদ্যালয়ের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দেড় থেকে দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সাধারণ মেরামতের জন্য ৪৫টি বিদ্যালয় ৩৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ পায়। কয়েকটি বিদ্যালয় একই সঙ্গে সাধারণ মেরামতের বরাদ্দও পায়। তা ছাড়া শিক্ষার্থী সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে পাঠসংশ্লিষ্ট ব্যয়ের জন্য ৫০ হাজার থেকে ৮৫ হাজার টাকার স্লিপ ফান্ডের টাকা পায় উপজেলার সব বিদ্যালয়। কিন্তু ভবন নামমাত্র মেরামত ও রং করেই বরাদ্দ সব টাকা পকেটে ভরেছেন প্রধান শিক্ষকরা। অনেক প্রধান শিক্ষক আবার ছোট টয়লেটে টাইলস লাগিয়ে বরাদ্দের অর্ধেক টাকা ব্যয় দেখিয়েছেন। সম্প্রতি উপজেলার বরাদ্দ পাওয়া এসব বিদ্যালয় ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খ ম জাহাঙ্গীর হোসেন দাবি করেন, ‘সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা বিদ্যালয়গুলোতে সব সময় তদারকি করে প্রধান শিক্ষকদের দিয়ে বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ করিয়ে নিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে অনিয়ম হওয়ার কথা নয়। তা ছাড়া কাজ দেখভালের দায়িত্ব ছিল উপজেলা প্রকৌশল অফিসের। কাজ দেখে প্রকৌশল অফিস প্রত্যয়ন দেওয়ার পর আমরা টাকা ছাড় করেছি। তাতে অনিয়ম হলে দায়ভার তাদের। তবে মেরামতের কাজ চলাকালীন আপনারা বিদ্যালয়ে গেলে আরো ভালো হতো। তাহলে অনিয়ম জানলে তখন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যেত। এর পরও বিদ্যালয়গুলোতে খোঁজখবর নিয়ে অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিক্ষা কর্মকর্তার অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমি এই উপজেলায় গত মাসে যোগদান করেছি। কিন্তু মেরামতের কাজ হয়েছে গত অর্থবছরে। তাই অনিয়ম হয়ে থাকলেও আমার কিছু জানা নেই। তার পরও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে দেখে অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা