kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

রাজশাহীর বাগমারা

এবার লুৎফর বাহিনীর প্রধান গ্রেপ্তার, স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবার লুৎফর বাহিনীর প্রধান গ্রেপ্তার, স্বস্তি

লুৎফর রহমান

বাগমারায় এবার লুৎফর বাহিনীর প্রধান ও বাসুপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফর রহমানকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার মধ্যরাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তা ছাড়া বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড তাঁর ছোট ভাই রফিকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাগমারা থানার ওসি আতাউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ১৮ জানুয়ারি রাতে আরেক বাহিনীর প্রধান জাবেরসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

দুই বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে গত ১৯ জানুয়ারি কালের কণ্ঠে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই দিন রাতেই জাবের বাহিনীর প্রধানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে বাহিনীর প্রধান লুৎফর রহমান ছিলেন অধরা। কালের কণ্ঠে প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত বুধবার রাতে লুৎফরকেও গ্রেপ্তার করা হলো।

এদিকে দুই বাহিনীর প্রধানকে গ্রেপ্তার করায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে অনেকেই ফোন করে কালের কণ্ঠকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এই দুই বাহিনীর দাপটে সাধারণ মানুষ তটস্থ থাকলেও এত দিন তাঁদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। তবে কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সূত্র ধরে পুলিশ দুই বাহিনীর প্রধানকে আটকের পর এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে।

এলাকাবাসীর মধ্যে মাহবুবুর রহমান, আব্দুল জালালসহ অনেকেই গতকাল কালের কণ্ঠের এই প্রতিবেদককে ফোন করে বলেন, ‘আমরা এখন অনেকটাই নিশ্চিন্ত। এলাকায় এখন শান্তি ফিরে আসবে। লুৎফর আর জাবের বাহিনীর কারণে এলাকায় সম্প্রতি সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টাহামলার ঘটনা ঘটেই চলেছিল। কিন্তু পুলিশ এত দিন এদের লাগাম টানতে পারেনি। এমনকি পুলিশকে মারধর করে জাবেরকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। তার পরও লুৎফর বাহিনী ছিল অধরা। এখন দুই বাহিনীর প্রধান জেলহাজতে থাকলে মানুষ শান্তিতে থাকবে।’

এলাকাবাসী জানায়, এই লুৎফরের হাত ধরেই জাবেরের উত্থান। ১০ বছর আগেও জাবেরের কিছুই ছিল না। কিন্তু ২০১৩ সালের পর থেকে জাবের বিপুল অর্থ-বিত্তের মালিক বনে যান। লুৎফরের সব অবৈধ লেনদেনের কারবারি ছিলেন জাবের। এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নাম করেও জাবেরের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। কিন্তু এলাকার মানুষ তখন বিদ্যুৎ পায়নি। আবার পুকুর দখল, খাল-বিল দখলেরও হোতা ছিলেন এই দুজন। বিভিন্ন প্রকল্পের নাম করে লুৎফর ইউনিয়ন পরিষদের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

১৯৯৬ সালের আগে এই লুৎফর ছিলেন বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডার। পরে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এরপর ২০১৩ সালের দিকে তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ বাগিয়ে নেন স্থানীয় এমপির বড় ভাই প্রয়াত এমদাদুল হকের ভায়রা ভাই হওয়ার সুবাদে।

বাগমারার বাসুপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল সরকার বলেন, ‘আমি সাধারণ সম্পাদক হলেও লুৎফর জোর করে সব সাংগঠনিক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতেন। সব ওয়ার্ড কমিটিতে তিনি নিজের লোকদের জায়গা করে দিয়েছেন। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা তাঁর প্রতি চরম ক্ষুব্ধ।’

এদিকে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম বলেন, পুলিশের একটি দল লুৎফরসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা