kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

খানসামায় চার কোটি টাকা ব্যয়

নদীর বুকে সেতুর বোঝা

এমদাদুল হক মিলন, দিনাজপুর   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নদীর বুকে সেতুর বোঝা

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নে ভূল্লি নদীর ওপর পাশাপাশি দুটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। মাঝখানে বালি দিয়ে ভরাট করায় নদীর পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার নিতাই বাজারে ভুল্লী নদীর ওপর পাশপাশি দুটি সেতু নির্মাণ করে মাঝে মাটি ফেলা হয়েছে। এর ফলে নদীর পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ভেড়ভেড়ি ইউনিয়নের সংযোগ রাস্তা ছাড়া পাশাপাশি দুটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। একটিতে নেমপ্লেট আছে, অন্যটিতে নেই। ২০১৫-২০১৬ সালে এই সেতু দুটি নির্মাণ করা হয়। সেতু দুটির মাঝখানে নদীর ওপর দুই পাশে প্রাচীর দিয়ে মাটি ফেলা হয়েছে। এ কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেতু দুটির সংযোগ সড়ক না থাকায় দুই পারের মানুষকে তিন কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হয়।

৭টি সেতু কাজে আসছে না

এই উপজেলার ছয়টি সেতু ও একটি কালভার্ট এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না। এগুলোর কোনোটির সংযোগ সড়ক নেই, কোনোটি অর্ধেক নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে সেতুতে বাঁশ দিয়ে সংযোগ সিঁড়ি বানিয়ে চলাচল করছে। অপরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক বিবেচনায় তৈরি করা সেতুগুলোর কারণে ২৫ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছে। কৃষকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের আদর্শ গ্রামের পাশে বেলান নদে ৮০ ফুট সেতু ভেঙে ৩৬ ফুট সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এর দুই পাশে যানবাহন যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। একটি চিকন আইল রয়েছে। যেটি দিয়ে মানুষ হেঁটে চলাচল করে। এতে করে গারপাড়ার হাটপুকুরপাড়া ও নাপিতপাড়ার কাছে আঙ্গারপাড়ার হাজারো মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে।

আলোকঝাড়ি ইউনিয়নের শুশুলী তালেপাড়া এবং বাসুলী হাজীপাড়ায় যাতায়াতে রাস্তার পাশে খালের ওপর তিনমাস আগে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সংযোগ রাস্তায় সাঁকো দিয়ে এলাকাবাসী চলাচল করে। এই সেতু পেরিয়ে শুশুলী-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয় শিশুদের। দুই পাশে সংযোগ না থাকায় সাঁকো বানিয়ে চলাচল করছে এলাকার মানুষ ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

খানসামা উপজেলায় সবচেয়ে আলোচিত সেতু হচ্ছে ভেড়ভেড়ি ইউনিয়নের খামারবিষ্ণুগঞ্জ গ্রামের দয়ারাম বাবুপাড়া এবং নাপিতপাড়ার কাছে বেলান নদে। অর্ধেক সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এলাকার মানুষ বাঁশ দিয়ে বাকি অর্ধেক সাঁকো বানিয়ে চলাচল করছে। ৪০ ফুট এই সেতু নির্মাণ করা হয়েছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে। সেতু পেরিয়ে নদীর পশ্চিম পাশে অর্ধেক কিলোমিটারের মধ্যে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এইচ এম মাহমুদ আলীর বাড়ি।

দয়ারামপাড়ার চিত্রমোহন গলিয়া, মণ্ডলপাড়ার আব্দুর রাজ্জাক ও মোটরসাইকেল মেকার বিপুল রায় জানান, নদীতে অর্ধেক সেতু হয়, এটা তাঁরা জীবনে দেখেননি। বাধ্য হয়ে বাশের সাঁকো বানিয়ে চলাচল করছেন। যারা কোনো দিন এই রাস্তায় চলাচল করেনি তারা রাতের আঁধারে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়তে পারে।

এ ব্যাপরে ভেড়ভেড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাফিজুল হক বলেন, ‘সেতুগুলো যখন নির্মাণ করা হয় তখন রাস্তার কাজও ধরা ছিল। কিন্তু ঠিকাদাররা কাজ না করে টাকা নিয়ে পালিয়েছে। তাই এই অবস্থা। এখন নতুন করে কাজ করার জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে সেতুগুলো বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাজাহারুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘কাজগুলো আমার সময়ের নয়। তবে এই কাজগুলো সমাপ্ত করার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে ডিও নিয়ে বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে।’

সেতুগুলো অপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, ‘স্থানীয় নেতাকর্মীদের চাহিদার ওপর কাজগুলো করা হয়ে থাকে।’

তবে অর্ধেক ও মাঝখানে মাটি ভরাট করে সেতুর সংযোগ দেওয়ার ব্যাপারে বলেন, ‘আমরা ৫০ থেকে ৬০ ফুটের বেশি বড় সেতু তৈরি করতে পারি না। তাই হয়তো এ অবস্থা হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা