kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

ব্যবসায়ীদের বালুতে খাল ভরাট

কাশিয়ানীতে হুমকিতে চার গ্রাম

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্যবসায়ীদের বালুতে খাল ভরাট

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার চরভাটপাড়া মৌজার ওয়াপদা খালটি চার গ্রামের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ। বালু ব্যবসায়ীরা খালটিকে ড্রেন হিসেবে ব্যবহার করায় এটি ভরাট হয়ে গেছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের চরভাটপাড়া মৌজার ওয়াপদা খাল স্থানীয় চারটি গ্রামের বর্ষা ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ। সম্প্রতি বালু ব্যবসায়ীরা বালুর চাতালের ড্রেন হিসেবে ব্যবহার করায় খালটি ভরাট হয়ে গেছে। এতে এলাকার লোকজনের শত শত বিঘা ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, খালটি উপজেলার জঙ্গল মুকুন্দপুর, বুধপাশা, পারকরফা স্লুইস গেট হয়ে চরভাটপাড়ার দক্ষিণ পাশ দিয়ে মধুমতী নদীতে গিয়ে মিশেছে। এই খাল দিয়েই এলাকার পানি মধুমতী নদীতে নামে। কিন্তু বালু ব্যবসায়ীরা অন্যখান থেকে বালু এনে এই খালের মধ্যে ফেলছেন। পরে এখান থেকে বিভিন্ন লোকের কাছে বিক্রি করে থাকেন। খালে বালু ফেলার কারণে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয় চাষিরা।

জানা গেছে, গোপালগঞ্জ সদরের গোবরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ও ঠিকাদার ফয়সাল কবির কদর চরভাটপাড়া মৌজায় বালুর চাতাল করেন। সেখানে তিনি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। সেই বালুর চাতালের পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি আউট লাইন করে সেটি ওয়াপদা খালের সঙ্গে সংযুক্ত করেন। এই আউট লাইন দিয়ে পানি ও বালু পড়ে খালটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এই খাল ভরাট হয়ে গেলে বর্ষা মৌসুমে তাদের এলাকার কয়েকটি গ্রামের বাড়িঘর ও ফসল পানিতে ডুবে যাবে। কিন্তু বালু ব্যবসায়ীরা এসব কথা আমলে নিচ্ছেন না।

চরভাটপাড়া গ্রামের কৃষক আবুল বাশার শেখ বলেন, ‘এই খাল বাঁচাতে না পারলে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। মাঠের ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাবে। এই ব্যাপারে আমরা জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছি।’

এ বিষয়ে সাবেক ওই ইউপি চেয়ারম্যান ও ঠিকাদার ফয়সাল কবির কদর বলেন, ‘আমি ওখানকার মধুমতী নদীর বালুমহালটি ইজারা নিয়ে স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীদের কাছে ঠিকা দিয়েছি। তারা ওই বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন করে পরে কী করছে আমি জানি না। তারা যদি বালু উত্তোলন করতে গিয়ে খাল ভরাট করে ফেলে, তাহলে বালু কাটতে নিষেধ করে দেব।’

কাশিয়ানী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিন্টু বিশ্বাস বলেন, ‘বিষয়টি মৌখিকভাবে জেনেছি। এলাকার তহশিলদারকে পাঠানো হবে। ব্যবসায়ীরা সরকারি খাল ভরাট করে থাকলে তা অপসারিত করতে হবে। নইলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিত বৈদ্য বলেন, ‘মৌখিক অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে খালে যাতে বালু না যায়, তা বলে এসেছি। যেটুকু বালু পড়ে খাল ভরাট হয়েছে, তা দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছি। বালু সরিয়ে না ফেললে বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা