kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

দুর্নীতির প্রতিবাদকারীরাই মামলার আসামি

গোদাগাড়ীতে নিম্নমানের কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজশাহী গোদাগাড়ীতে সড়ক উন্নয়ন কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রিশিকুল ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। এরই মধ্যে অতি উৎসাহী পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

এলাকাবাসী জানায়, গোদাগাড়ীর রিশিকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শল্লা থেকে বিলদুবইল পর্যন্ত মাত্র এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা সংস্কারের জন্য স্থানীয় এমপি তাঁর প্রকল্প থেকে ১৪ টন চাল বরাদ্দ দেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ওই কাজের বিপরীতে নারী ইউপি সদস্য ফিরোজা বেগমকে সভাপতি করে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। তিনি অর্ধেক চাল উত্তোলনের পর বিক্রি করে টাকা লোপাট করেন।

এদিকে রাস্তায় মাটি না ফেলে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি উল্টেপাল্টে মাটি ভরাট দেখিয়ে প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের চেষ্টাটি এলাকাবাসী ধরে ফেলে। এ সময় এলাকাবাসী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করা হলে কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ অবস্থায় গত ৬ জানুয়ারি ইউপি সদস্য ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে এলাকাবাসীর বিরুদ্ধেই গোদাগাড়ী থানায় চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ করেন। ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম টুলুর সহযোগিতায় মামলাটি করা হয়। গত ১৩ জানুয়ারি রাতে ওয়াসিমকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। সাত দিন জেল খাটার পর গত ২১ জানুয়ারি তিনি জামিনে মুক্তি পান।

স্থানীয় নুরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা এলাকার অনেকেই ওই রাস্তা সংস্কারের নামে অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। কিন্তু উল্টো আমাদের লোকজনের বিরুদ্ধেই চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় পুলিশ এখনো এলাকাবাসীকে হয়রানি করছে। এসআই আলহাজ অনেকের কাছে টাকাও দাবি করছেন। টাকা না দিলে চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।’

তবে কাঁকনহাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের এসআই আলহাজ বলেন, ‘সবাইকে বিষয়টি মীমাংসা করে নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চাঁদাবাজি মামলা হওয়ায় ওসি স্যারের নির্দেশে আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান চালাতে বাধ্য হয়েছি।’

গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ সঠিক কি না—তা তদন্ত করা হচ্ছে। আইনগতভাবে আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রাস্তার কাজের প্রতিবাদে কারো বিরুদ্ধে মামলা করা হলে সেটি কর্তৃপক্ষ দেখবে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।’

এদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু বাশির বলেন, ‘ওই প্রকল্পের বিপরীতে বেশকিছু চাল এরই মধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে। কাজে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জানতাম না। হয়ে থাকলে সঠিক হয়নি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা